গাজা যুদ্ধ ১০০ দিন পেরিয়েছে, ইসরায়েলের দাবি হামাসের বহু সদস্যকে তারা হত্যা করেছে। এখন যুদ্ধ পরবর্তী গাজার নিয়ন্ত্রণ কে নেবে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারই বা কী হবে এই নিয়ে চলছে আলোচনা। ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কথা বলে আসছে, বিশ্বসম্প্রদায়ও সেটাই চাইছে। দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সহজ মানে হচ্ছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দু’টি আলাদা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হবে। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একমাত্র প্রত্যয় যেন কিছুতেই ফিলিস্তিন নামে কোনো স্বাধীন দেশের জন্ম হতে না দেওয়া। এমনকি নিজের এই অবস্থান বজায় রেখে সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধীতা করছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকাকালীনই সম্ভব। কিন্তু নেতানিয়াহু আবারও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চান না তিনি।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সামরিক দায়িত্ব ইসরায়েলের হাতেই থাকবে। তাদের এ পরিকল্পনার সঙ্গে আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পুরোটাই ‘পরিপন্থি।’
যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। এক্ষেত্রে ইসরায়েলকে তারা চাপও দিচ্ছে। কিন্তু গতকাল শনিবার (২০ জানুয়ারি) নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে এসব চাপকে কার্যত ‘বৃদ্ধাঙ্গু্ল’ দেখিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর এমন কথা স্পষ্ট করেছে— গাজায় যুদ্ধ পরবর্তী সরকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রকাশ্য বিরোধ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ স্বীকার করে নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ‘পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখে।’
শুক্রবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর বাইডেন বলেন, ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। জাতিসংঘের অনেক দেশ আছে যাদের কোনো সামরিক বাহিনী নেই।’
তবে এরপর এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দপ্তর বলে, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, হামাস পরাজিত হওয়ার পর গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের হাতে। যেন গাজা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হতে পারে। এ বিষয়টি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি।’
পরবর্তীতে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, জর্ডানের পশ্চিমাঞ্চলের অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে ইসরায়েলের হাতে। এই অঞ্চলের সঙ্গেই ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিমতীরের অবস্থান। অর্থাৎ বিষয়টি স্বাধীন ফিলিস্তিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নেতানিয়াহু নাকচ করলেও বাইডেন বলছেন ‘সম্ভব’ 