পঞ্চম দিনে মতো চলছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধা উদ্ধার অভিযান। ফেরিতে থাকা ৯টি যানের মধ্যে প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিন উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা মিলে ৩টি ট্রাক উদ্ধার করেছে।
তবে, পঞ্চম দিনে বেলা দেড়টার দিকে আরও একটি উদ্ধারসহ মোট ৪টি ট্রাক উদ্ধার করা গেলেও এখনও ফেরিটিকে উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ফেরির সহকারী ইঞ্জিন চালক হুমায়ুন কবিরের (৩৯) সন্ধান মেলেনি এখনও।
এতে প্রশ্ন উঠেছে নৌ-পরিবাহন বিভাগের সক্ষমতা নিয়ে।
রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে পঞ্চম দিনের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারসংশ্লিষ্টরা।
তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ একসাথে মিলে উদ্ধারকার্যক্রম শুরু করলেও ডুবে যাওয়া উল্টো হয়ে থাকা ফেরিটি এখনো সোজা করতে পারেনি। তবে সোজা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাহ জাহান জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমের সক্ষমতা প্রতিটির ৬০ টন করে। আর প্রত্যয়ের সক্ষমতা ২৫০ টন। সেক্ষেত্রে তিন জাহাজ একত্রে চেষ্টা করলে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, আজ রবিবার (২১ জানুয়ারি) ঘাটে থাকা তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ মিলে উদ্ধারকার্যক্রম সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু করেছে। আশা করছি উদ্ধারকার্যক্রমে ভালো অগ্রগতি আসবে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ডুবে যাওয়া ফেরিটি সোজা করতে তিনটি হুক পরানো হচ্ছে। এরপর ফেরিটি তুলার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ৯ (এসিপিএস) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন তত্ত্বাবধায়ক শেখ রবিউল ইসলাম জানান, সারা বাংলাদেশে মোট ৪টি উদ্ধার জাহাজ আছে। এদের মধ্যে রুস্তম ৫০ টন, হামজা ৫০ টন, প্রত্যয় ২৫০ টন এবং দুর্বার ২৫০ টন উদ্ধারক্ষমতা আছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটের কাছে ৯টি ট্রাক নিয়ে ফেরি রজনীগন্ধা ডুবে যায়। এসময় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ফেরির সহকারী ইঞ্জিন চালক হুমায়ুন কবির।
