ভেঙে ফেলতে হবে গুলশান শপিং কমপ্লেক্স

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৯ এএম

রাজধানীর গুলশান-১-এর ঝুঁকিপূর্ণ ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ সর্বোচ্চ আদালতেও বহাল রয়েছে। এক মাসের বেশি সময় আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেয়।

দুই লিজ গ্রহীতা ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ প্রতিষ্ঠান লিমিটেডের পক্ষে করা রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ৩০ দিনের সময় দিয়ে ভবনটির ডেভেলপার কোম্পানি ‘শান্তা প্রপার্টিজ’কে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে  হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে বাণীচিত্র ও চলচ্চিত্রের পক্ষে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে শান্তা প্রপার্টিজ। চেম্বার আদালতে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে পাঠিয়ে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এ রায় হলো।

আদালতে আপিল আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। বাণীচিত্র ও চলচ্চিত্রের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। আইনজীবী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবন ভাঙতে ৩০ দিনের যে নির্দেশনা ছিল, সেটি বহাল রয়েছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হিসেবে শান্তা প্রপার্টিজ এটি ভাঙার উদ্যোগ নেবে।’

আইনজীবীদের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডিএনসিসি কাঁচাবাজারে অগ্নিকা-ের পর পাশেই গুলশান শপিং কমপ্লেক্সের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই বছরের মে মাসে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ভবনটির বিষয়ে আপত্তি তুললে পরের বছরের ১১ জুন ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী এবং ২০২১ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৩ জুলাই গুলশান শপিং কমপ্লেক্স সিলগালা করে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরপর সিলগালা খোলার অনুমতি ও তা ভেঙে ফেলতে ডিএনসিসিতে আবেদন করে দুই প্রতিষ্ঠান বাণীচিত্র ও চলচ্চিত্র। তবে ডিএনসিসির অনুমতি না মেলায় বাণীচিত্র ও চলচ্চিত্র নামে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত