৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৬ এএম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে উর্ত্তীণ হয়ে মাধ্যমিকে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর। উপজেলার মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার পর অনুমোদন নিয়ে শাখা ও আসন বাড়িয়ে এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তি করার জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল। কিন্তু ক্লাস শুরু হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পর্যন্ত শাখা ও আসন বৃদ্ধির অনুমোদন পায়নি। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ছুটছেন এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৮৯০ জন এবং কিন্ডারগার্টেন ও এবতেদায়ি মাদ্রাসা থেকে ৩ হাজার ২৮৬ জনসহ মোট ৯ হাজার ১৭৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মাধ্যমিকে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু উপজেলার ৪০টি স্কুল ও ১৬টি মাদ্রাসার মোট ৭৫টি শাখায় ৫৫ জন করে ৪ হাজার ১২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৫ জন ভর্তি হয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ক্লাসও করছে। শুধু গ্রামাঞ্চলের তিনটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংকটে ৭০টি আসন শূন্য রয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত আসনে ভর্তি নেওয়ার পরও প্রায় সমসংখ্যক শিক্ষার্থী অপেক্ষমান রাখা হয়েছে শাখা ও আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ভর্তি করার জন্য। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো শাখা ও আসন বৃদ্ধির অনুমোদন না পাওয়ায় ভর্তি হতে না পারা ৫ হাজার ১২১ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এ বছর থেকে প্রতি শাখায় ৫৫ জন করে ভর্তি করার নিয়ম। গত বছর এমন কোনো নিয়ম ছিল না। তাই আসনের চেয়ে বেশি ভর্তি করা যেত। এ বছর তা না পারায় অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না।

গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক সরকার জানান, তার বিদ্যালয়ে এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করে ৩৪৯ ছাত্রী। লটারির মাধ্যমে তিনটি শাখায় ১৬৫ জনকে ভর্তি করেছেন। আসনের অনুমতি পেলে ভর্তির জন্য অপেক্ষায় রেখেছেন আরও ১৬৫ জনকে। গত বছর ভর্তি হয়েছিল ২৭৩ জন।

ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরোত্তম রায় জানান, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছিল ১৯৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬৫ জনকে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা অপেক্ষমান রয়েছে। গত বছর ভর্তি হয়েছিল ২২৮ জন।

নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক জানান, এ বছর ভর্তির আবেদন করেছিল ৪৫৫ জন। তিন শাখায় ভর্তি হয়েছে ১৬৫ জন। অপেক্ষার তালিকায় আছে আরও ১৬৫ জন।

ধুরুয়া নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন জানান, একটি শাখায় ৫৫ জন ভর্তি হয়েছে আরও ১০৩ জন অপেক্ষার তালিকায় রয়েছে।

মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে ইসলামাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রুকন উদ্দিন জানান, একটি শাখায় ৫৫ জন ভর্তি হয়েছে। অপেক্ষমান রয়েছে ৩৫ জন। শাখা খোলার জন্য তিনি আবেদন করেছেন।

এদিকে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করায় এবং আসন সংকটের কারণে অনেক নামি প্রতিষ্ঠানের মেধা তালিকার ১ থেকে ২০ ক্রমিকে থাকা অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোথাও ভর্তি হতে পারেনি।

ইসলামাবাদ এলাকার মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শহরের সবগুলো স্কুলে আবেদন করেও ভাগ্যের লটারিতে সুযোগ পায়নি।’

কালিপুর দৈনিক বাজার এলাকার আরেফিন রহমান বলেন, ‘আমার সন্তান ক্লাসে ফার্স্ট হয়ে লাভ কি! লটারিতে মেধা যাছাই মেনে নেওয়া যায় না।’ উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কমল কুমার রায় বলেন, ‘ভর্তির বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করেছেন। জানুয়ারির ৩০ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি করা যাবে। ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুল করিম বলেন, ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন একত্রিকরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহসিনা আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত