জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে অনুসারীদের অবহেলা ও জমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সবাই ক্যাম্পাসে হাবিবুর রহমান লিটনেরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফের পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ শোয়েব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী, বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা আজ এখানে একত্র হয়েছি এই মর্মে যে, হাবিবুর রহমান লিটন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া থেকে আজ অবধি কর্মীদের খোঁজ না রাখা, কমিটির ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সমন্বয় না করা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতি বিকেন্দ্রীকরণ না করে নিজ হলকেন্দ্রিক চিন্তা- চেতনা পোষণ করা, প্রত্যেকটি হলের কর্মিসভা করেও দীর্ঘদিন যাবৎ হল কমিটি না দেওয়া, হল কমিটির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা এবং নানা ব্যস্ততার অজুহাত দেখানো এবং সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার ‘জমি দখল’-এর মতো ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন।
তাই এসব গুরুতর অভিযোগ এবং নৈতিক স্খলনের প্রতিবাদে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাকে এই মুহূর্ত থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’
মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক লেলিন মাহবুব ও আরাফাত ইসলাম বিজয়, সাংগঠনিক সম্পাদক চিন্ময় সরকার, সহসভাপতি জাহিদুজ্জামান শাকিল ও ফয়সাল খান রকি এবং অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল আলম তাকিদ।
জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ ওঠে হাবিবুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি আকতারুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি ও হাবিবুর রহমান লিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে জাবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় সংসদ। লিটন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আপত্তি তুলতে থাকেন ক্যাম্পাসে তার সক্রিয়তার বিষয় নিয়ে। নেতাদের অভিযোগ ছিল, বাড়ি ক্যাম্পাসের পাশের এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তার বেশি সম্পৃক্ততা নিয়ে।
জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হাবিবুর রহমান লিটন।
সংবাদ প্রকাশ নিয়ে সাংবাদিককে গালিগালাজের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও ক্যাম্পাসে বাস আটকে ও বহিরাগতকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে লিটনের বিরুদ্ধে।
ক্যাম্পাসে বিরোধী দলের কর্মীকে মারধরের জন্য অনুসারীদের প্ররোচিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে।
অনুসারীদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাবিবুর রহমান লিটনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
