কৃষি গবেষণাগারের নামে কাটা হচ্ছে টিলা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২৪ পিএম

ফটিকছড়িতে কৃষি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার নামে টিলা কাটছে হালদা অর্গানিক ফ্রুটস এবং মডার্ন হর্টিকালচার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বিগত কয়েকমাস ধরে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ডলু এলাকায় দিনদুপুরে এক্সকাভেটর দিয়ে টিলা কেটে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অবৈধভাবে টিলা কাটার দায়ে গেল বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা করলেও তা আমলে নিচ্ছে না মালিক পক্ষ। অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ফের টিলা কাটা শুরু করেছে কৃষি গবেষণাগার নামের এ প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে টিলা কাটা অব্যাহত থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, সংশোধিত আইন ২০১০ এ বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন, দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা অপরিহার্য। জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়া কর্তন বা শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।

আইন বহির্ভূতভাবে পাহাড় ও টিলা কাটা প্রমাণিত হলে প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ বারবার করতে থাকলে প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছর থেকে দশ বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ থেকে দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। 

সরজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ঘেষা পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের সন্নিকটে পাঁচটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এমনভাবে মাটি কাটা হচ্ছে দেখে বুঝার উপায় নেই, এখানে এক কয়েকদিন আগেও উঁচু টিলা ছিল।

চারিদিকে ঘেরাবেষ্টিত এলাকার প্রবেশমুখে টাঙানো হয়েছে একটি বিশাল সাইনবোর্ড। তাতে লেখা রয়েছে কমলার জাত উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রদর্শনী সেন্টার।

জানা যায়, ১৪ দশমিক ৯ একর টিলা শ্রেণির এ জায়গায়টিতে 'হালদা অর্গানিক ফ্রুটস এবং মডার্ন হর্টিকালচার নামে নার্সারি গড়ে তুলছেন স্থানীয় হালদা ভ্যালি চা বাগানের মালিক শিল্পপতি নাদের খান।

স্থানীয়রা জানান, এখানে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে বেশকিছু গাছের চারা মজুত করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে। মূলত কৃষি গবেষণার নামে টিলা কেটে জায়গা দখলে নিতে প্রভাবশালী মহলের এমন তৎপরতা।

অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের দেখভাল কাজে নিয়োজিত আজম তালুকদার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দাবি করে বলেন, বিশেষ কায়দায় প্রশাসন থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, 'চারা রোপণ করার কথা বলে টিলার মাটি সমান করার মৌখিক অনুমতি নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর মানে এই নয় যে, টিলার মাটি কেটে অন্যত্র সরাতে পারবে। বিষয়টি এতদিন অবগত ছিলাম না। স্থানটি পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত