সকালে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বিকেলে ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জেডিইউ নেতা নিতিশ কুমার। গতকাল রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ রাজভবনে নবমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। সে সময় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিধান পরিষদের (রাজ্যের উচ্চকক্ষ) সদস্য সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা। তারা দুজনই হবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। আরও ছয় নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা প্রেম কুমারও। নিতিশ কুমারের নাটকীয় এই কর্মকাণ্ড যে ফের বিজেপির ডেরায় ফেরার জন্য তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে নতুন বিষয় হলোÑ তার এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইনডিয়া।’ অবশ্য নিতিশ যে ইনডিয়া জোট ছেড়ে বিজেপির এনডিএ জোটে যোগ দেবেন, এমন গুঞ্জন চলছিল কয়েকদিন ধরেই। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তাকে তার কাক্সিক্ষত জায়গা দেয়নি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটটি।
নিতিশ কুমার ২০২২ সালে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে লালু প্রসাদ যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সঙ্গে জোট বেঁধে নতুন সরকার গঠন করেছিলেন। পরে তিনি বিজেপিবিরোধী জোট ইনডিয়া’য় যোগ দিয়েছিলেন। ছিলেন জোটের অন্যতম বড় মুখ ছিলেন। এমনকি তিনি তার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় জোটের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকও আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তার পরও নিতিশ কেন জোট ছাড়ছেন এবং বিজেপিতে ভিড়ছেন, তা এক বড় প্রশ্ন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিতিশ কুমারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মূলত জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত ইনডিয়া জোটের বৈঠকই নীতিশের জোট ছাড়ার অন্যতম কারণ। বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এর সূত্র ধরে মোদির দল বিজেপি নিতিশকে লুফে নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সূত্রটি বলেছে, ১৩ জানুয়ারির বৈঠকে জোটের আহ্বায়ক হিসেবে নিতিশ কুমারের নাম প্রস্তাব করেছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কস) প্রধান সীতারাম ইয়েচুরি। লালু প্রাসাদ যাদব, শারদ পাওয়ারসহ বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। কিন্তু আপত্তি জানান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও পোস্টারবয় রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, যেহেতু বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত নেই এবং তার যেহেতু নীতিশের ব্যাপারে আপত্তি আছে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
কিন্তু নিতিশ কুমার সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেন, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে নেই এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা নীতিশের পক্ষে তাই সিদ্ধান্তটি মমতার অনুমোদনের জন্য আটকে থাকা উচিত নয়। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বা সোনিয়া গান্ধী কেউই রাহুলকে বিষয়টি বাদ দিতে বলেননি। সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিতিশ কুমার মনে করেন, রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে মমতাকে প্রভাবিত না করে এবং তাকে জোটের সঙ্গে না এনে বৈঠকে তাকে অপমান করেছেন।
গতকাল রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নিতিশ বলেন, পুরনো জোট ছেড়ে নতুন জোট করেছিলাম। কিন্তু এখানেও সব ভালো ছিল না। কোনো কাজের কাজ হচ্ছিল না। তাই এই সিদ্ধান্ত।
যদিও, নীতিশের বেলায় পক্ষ বদলের ঘটনা নতুন নয়। গত ১০ বছরে এ নিয়ে পঞ্চমবার শিবির বদল করলেন নিতিশ কুমার। তাই তার চলে যাওয়ায় অবাক হননি এবং নিতিশ যে জোটে থাকবেন না এমনটা আগেই ধারণা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের সভাপতি ও ইনডিয়া জোটের মুখ্যনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
