রাজধানীর বাড্ডায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার পর পাঁচ বছরের শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
আদালত এটি হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৫ বছরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাজনিত অবহেলায় কত লোকের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
এর আগে দুটি ধার্য তারিখে আয়ানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন না আসায় গত ২৫ জানুয়ারির আদেশে ২৮ জানুয়ারি (গতকাল) প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। এ-সংক্রান্ত রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। রিটের পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান আকন্দ মাসুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিবেদনে কী আছে সেটি প্রকাশ করা হয়নি। আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে হলফনামা আকারে এটি দাখিল করতে বলেছে।
গত ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট আয়ানের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেয়। এ ছাড়া ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবন্ধন (লাইসেন্স) কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সনদ কেন স্থগিত করা হবে না, রুলে সেটিও জানতে চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে নির্দেশ দেয় আদালত।
গত ৩১ ডিসেম্বর খতনা করাতে আয়ানকে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা-মা। তবে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুলের অভিযোগ করেন তারা। গত ৭ জানুয়ারি গুলশান-২-এর ইউনাইটেড হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে মৃত্যু হয় আয়ানের। তার মৃত্যুতে দেশ জুড়ে তোলপাড়ের পর গত ১৫ জানুয়ারি ওই হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দায়ী করে মামলা করেছেন শামীম আহমেদ।
