রাজধানীর মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার স্নেহা হত্যার মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার করে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন নিহতের মা নাজনীন নাহার। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাজনীন নাহার বলেন, ‘আমার মেয়ে হাজারীবাগ থানাধীন নিমতলা এলাকায় কোচিং সেন্টারে কোচিং করত। প্রতিদিন বিকেলে কোচিংয়ে যেত এবং কোচিং শেষে বাসায় ফিরে আসত। গত বছরের ৫ জুন বিকেলে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় স্নেহা। কোচিং শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফিরে না আসায় আমার মা শাহিনুর আমার মেয়ের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু তার মোবাইল রিসিভ না করে বারবার কেটে দেয়। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে আমার মোবাইলে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি বলেন, আপনার মেয়ে অটোরিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছে। তাকে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি হাসপাতালে আসুন। খবর পাওয়ার পর আমার মাকে সংবাদ জানাই এবং দ্রুত মেডিকেলে যেতে বলি। আমরা শিকদার মেডিকেলে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আমার মেয়েকে দেখতে পাই। পরে আমার মাকে দ্রুত ওই অ্যাম্বুলেন্সে তুলে শ্যামলীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর আমার মা আমাকে ফোন করে সেখানে যেতে বলেন। এ সময় আমার ছোট ভাই ও ভাবিকে নিয়ে ওই হাসপাতালের দিকে রওনা হই। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে আমার মেয়েকে শোয়া অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় সেখানকার জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, আমার মেয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছে। এ সময় আমরা দেখি তার কপালে ফুলা কালো দাগ, রক্তাক্ত অবস্থায় ফুলে ওঠা, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া, মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছে, কানে কালো দাগ, দুই হাতের কবজিতে কালো দাগ, পেটের ডান পাশে দাগ ও বাম পাশে ছোলাসহ পুরো শরীর ফুলা অবস্থা।’
