ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠতম সেনা কমান্ডার ভ্যালেরি জালুঝনিকে গত সোমবার পদত্যাগ করতে বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে সামরিক বাহিনীর প্রধান এই আহ্বান নাকচ করেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভবত জালুঝনিকে পদ থেকে সরিয়ে দেবেন প্রেসিডেন্ট। শোনা যাচ্ছে, জালুঝনির মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ দেখছেন জেলেনস্কি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন ভ্যালেরি জালুঝনি। গত গ্রীষ্মে পাল্টা আক্রমণের সময় রাশিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে না পারায় জালুঝনির ব্যর্থতা দেখেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার পথ পরিষ্কার করতে ইউরোপীয় মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্রমাগত লড়াই করে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কিয়েভ প্রশাসনের ভেতরে বড় বিরোধ ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে।
জালুঝনিকে যে প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করতে বলেছেন, তা এখন আর গোপন বিষয় নয়। ইউক্রেনের বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা এবং জালুঝনির সমর্থক ওলেকসি গোনচারেনকো গত মঙ্গলবার বলেন, ‘গতকাল (গত সোমবার) জালুঝনিকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট এবং জালুঝনি তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটি একটি খারাপ উদাহরণ। তাদের দুজনের কোনো মৌলিক বিরোধ নেই। কিন্তু জেলেনস্কির কার্যালয় এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, জালুঝনি সামরিক বিবৃতি বাদ দিয়ে রাজনীতিকের মতো মন্তব্য করছেন।’
জেলেনস্কি যে জালুঝনিকে সরিয়ে দিচ্ছেন, এ সংক্রান্ত আলোচনা বেশ জোরালো। তবে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মিত্রদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। জালুঝনির জায়গায় ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কিরিলো বুদানভকে ওই পদে বসাতে পারেন প্রেসিডেন্ট। তবে এই মুহূর্তে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বের বদল ঘটিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে কি অর্জন করতে চাইছে কিয়েভ, তা পরিষ্কার নয়। কারণ এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্মুখরেখায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংকট দেখা যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে দেশটিকে পশ্চিমা সহায়তার পথ পরিষ্কার করতে হবে।
