ময়মনসিংহের ত্রিশালে ফসলি জমি ও বসতিপূর্ণ এলাকাসহ যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ৫৮টি ইটভাটা। যার মধ্যে প্রায় অর্ধশত ইটভাটার নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। এসব ইটভাটা সব নিয়ম উপেক্ষা করে বনবাদার উজাড় করে অবাধে পোড়াচ্ছে গাছ। ফলে উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি, ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় রয়েছে ৫৮টি ইটভাটা। তার মধ্যে বৈধ ১৫টি। বেশিরভাগই অবৈধ। ইটভাটাগুলো নিয়ন্ত্রণ আইনকে তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ ইটভাটাই গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমিতে। আবার নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব অবৈধ ভাটাগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে, বৈধ ভাটাতেও অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের এলংজানী গ্রামে মেসার্স একতা ব্রিকস, রামপুর ইউনিয়নের কাজিরকান্দায় টিবিসি ব্রিকস, হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রামের রোজ ব্রিকস, ত্রিশাল ইউনিয়নের হামিদ ব্রিকসসহ ১২ ইউনিয়নে নামে-বেনামে ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। বেশিরভাগ ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে তিন ফসলি জমিতে। তাছাড়াও ত্রিশাল ইউনিয়নে ইটভাটার পাশে বসানো হয়েছে করাতকল। করাতকলে নিয়মিতই গাছ কেটে ছোট করে সেগুলো ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন কাঠ পুড়ছেন?জ্বা জানতে চাইলে, কয়েকটি ইটভাটার মালিক বলেন, মানুষের ইটের চাহিদাও রয়েছে। ইট না পুড়লে মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণ করবে কী দিয়ে? সব ইটভাটার যা হবে আমাদেরও তাই হবে!
বসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে রোগ-বালাই। ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ ও উৎপাদন।
জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের ফলে মাটির ওপরের স্তরের জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আস্তে আস্তে উর্বরতা হারায় মাটি। ভাটা বন্ধ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন থাকে এর প্রভাব। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অবৈধ ভাটাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক উপসচিব দিলরুবা আহমেদ বলেন, নীতিমালা অনুসরণ করে যারা ভাটা স্থাপন করেননি আমরা তাদের লাইসেন্স দিইনি। তবে যেসব অবৈধ ভাটা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বা ফসলি জমিতে থাকা ভাটা আমরা ভেঙে দিচ্ছি।
