চুরি করতে দেখে ফেলায় মা-ছেলেকে হত্যা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৩ পিএম

প্রবাসীর পাঠানো টাকায় বাড়ি নির্মাণের নতুন ইট কেনা দেখে ও ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা জেনে চুরি করতে গিয়েছিলেন তিনজন। ঘরে ঢোকার বিষয়টি টের পাওয়ায় গৃহবধূ লাবনী খাতুন ও তার শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। পরে টাকা ও গহনা চুরি করে পালিয়ে যায় চোরের দল।

পাবনার চাটমোহরে চাঞ্চল্যকর প্রবাসীর স্ত্রী ও তার শিশু সন্তান হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানায় পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে চুরিকৃত মালামাল।

আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী।

তিনি জানান, চাটমোহর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার স্ত্রী লাবনী খাতুন নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে ২৫ হাজার ইট কেনেন। এছাড়া ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলেন। গত ২৫ জানুয়ারি গৃহবধূ লাবনী তার ১০ বছরের ছেলে রিয়াদকে নিয়ে রাতে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে বাড়ির ছাগলের ঘর থেকে লাবনী খাতুনের ও বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে গাছে ঝুলন্ত শিশু রিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে মাঠে নামে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জড়িত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্যে চোরাইকৃত গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চাটমোহর উপজেলার ধুপুলিয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৬), তার আপন ভাই হোসেন আলী (৩৭) এবং রাজবাড়ির খানখানাপুর দত্তপাড়া এলাকার হুমায়ুন মিজি ওরফে হৃদয় (২৮)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃতরা। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু বক্কর সিদ্দিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাসিবুল বেনজির, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমরান মাহমুদ তুহিন, সদর থানার ওসি রওশন আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত