নতুন সংকটে জাতীয় পার্টি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভক্তি তৈরি হয়েছে জাতীয় পার্টিতে। ঘরের দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। আসন্ন দুই সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনেও দলগতভাবে অংশ নিতে চায় দুটি পক্ষই। এ ক্ষেত্রে কার সইয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে জাতীয় পার্টি (জাপা), তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের কার সইয়ে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা রাজনৈতিক দলগুলোকে লিখিতভাবে জানাতে হয় ইসিকে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুপক্ষ যেহেতু অংশ নিতে চায়, সে ক্ষেত্রে কারা দলের লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেবে তা নিয়ে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে।

এর আগে গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই সংকট তৈরি হয় জাতীয় পার্টিতে। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া এবং জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ নির্বাচন কমিশনে আলাদা চিঠি দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন রওশন এরশাদের জোট করার বিষয়টি আমলে নেয়নি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও দ্বন্দ্বে জড়ান দলটির নেতারা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ অভিযোগ এনে ৬৭১ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এই প্রেক্ষাপটে গত রবিবার দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ মতবিনিময় সভা ডাকেন। সেখানে অব্যাহতি দেওয়া ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা নেতাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ওই সভা থেকে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে ‘বহিষ্কার’ করেন রওশন এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। মহাসচিব হিসেবে মামুনুর রশীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী সম্মেলন পর্যন্ত তারা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়। এ ছাড়া কাকরাইল কার্যালয় থেকে কর্মকান্ড পরিচালনার কথাও বলা হয়।

পরদিন সোমবার কমিটি পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন রওশনপন্থিরা। নিজেদের গঠিত কমিটিকে আমলে নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে চিঠি দিয়েছেন তারা। তবে কমিশন বলছে, দুপক্ষ থেকে দুটি কমিটি হলে তখন বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। আইনগত দিকগুলো তখন খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে আগামী ৯ মার্চ ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেবেন বলে জানিয়েছেন রওশনপন্থি কমিটির মহাসচিব মামুনুর রশীদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগতভাবে প্রার্থী দেব। যেহেতু এখনো সময় আছে। প্রতীক কিংবা অন্যান্য বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমরা অন্য কাউকে আমলে নেব না। নির্বাচন হোক কিংবা অন্য যেকোনো ইস্যু, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত নেবেন একমাত্র দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

দুই অংশ দলগতভাবে প্রার্থী দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, এমন প্রশ্নে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেউ যদি দাবি করে আমি চেয়ারম্যান বা মহাসচিব সেটা ওই পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হতে হবে। এর বাইরে যদি কেউ দাবি করে তাহলে কমিশন গ্রহণ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রী পার্টির ক্ষেত্রে একই অবস্থা হয়েছিল। বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাক্ষর করেননি বলে কমিশন তাদের গ্রহণ করেনি। এখন তারা নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

জাতীয় পার্টিরও সে অবস্থা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, তারা যদি আদালত থেকে রায় আনতে পারে সেটা ভিন্ন বিষয়। যেহেতু কমিশনের কাছে তারা চিঠি দিয়েছেন, কমিশন এ বিষয়ে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

কী হয়েছিল গণতন্ত্রী পার্টির

গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি কমিটি কমিশনে আলাদাভাবে দাখিল করেন তারা। উভয় অংশের কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় তাদের বাড়তি সময় দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে তারা আবারও দুই ভাগে কাগজপত্র জমা দেন। ইসি এ বিষয়ে শুনানি করে দলটির নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি নির্বাচনে গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। পরে দুপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে ১০ প্রার্থীর ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দলটির নিবন্ধন নিয়ে যে বিরোধ তা পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন নিষ্পত্তি করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আদালত। ফলে দলটির নিবন্ধন থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত