সাগরিকা ঝলকে ভারতবধ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২২ এএম

প্রথমার্ধে দুদলই খেলেছে সমান্তরালে। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক বাংলাদেশ বারবার হানা দিয়েও খুলতে পারছিল না ভারতের গোলের দরজা। তবে হাল ছাড়েননি তারা। যার ফলটা বাংলাদেশ পেয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। আফিদার লম্বা করে ফেলা বল অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে আয়ত্তে নিয়ে ভোঁ দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন নেপালের বিপক্ষে জোড়া গোলদাতা সাগরিকা। এরপর ঠান্ডা মাথায় ভারত কিপারকে পরাস্ত করে আরেকবার জয়ের উপলক্ষ এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। কমলপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে ভারতকে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পা রেখেছে বাংলাদেশ।

শেষ মুহূর্তে সাগরিকা গোলটা করতে না পারলে বাংলাদেশকে অপেক্ষায় থাকতে হতো মঙ্গলবার ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত। এখন দুর্বল ভুটানের বিপক্ষে স্বাগতিকরা খেলবে নির্ভার হয়ে। আর শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা ভারতকে পেরুতে হবে নেপাল বাধা। লিগপর্বে দুদলই প্রথম ম্যাচে জিতে মুখোমুখি হয়েছিল একে অপরের। যারা জিতবে তারাই ফাইনালে পৌঁছে যাবে, এমন সমীকরণের ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনো দল। বল দখল, আক্রমণ রচনায় এগিয়ে থাকলেও স্বাগতিক বাংলাদেশ পারেনি গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে।

রবিবার রাতের ম্যাচটাকে ধরা যায় ফাইনালের ড্রেস রিহার্সাল। খুব বড় অঘটন না ঘটলে এই দুদলেরই শিরোপার লড়াইয়ে নামার কথা। তাই এমন ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই দুদল সতর্কতা নিয়ে শুরু করেছে। বাংলাদেশ অবশ্য খানিকটা প্রেস করে চেয়েছিল গোল বের করতে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্রি-কিক থেকে ভারত কিপারকে পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আফিদা খন্দকার। তবে তার শট ওপরের জাল কাঁপায়। ম্যাচের নবম মিনিটে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার আফিদা ও জয়নবের ভুলে গোল পেতে পারত ভারত। তবে শুরুর ভুল শুধরে ভারতীয় মিডফিল্ডার পুজাকে ছোট ডি-বক্স থেকে গোল করতে দেননি তারা। পরে বাংলাদেশ কিপার স্বপ্না রানী মন্ডল বিপদমুক্ত করেন। দ্বাদশ মিনিটে নেহার কোনাকুনি শট রুখে দিয়ে ফের স্বাগতিকদের রক্ষা করেন স্বপ্না। ৩৭ মিনিটে আফিদার ফ্রি-কিকে সুরমা জান্নাতের হেড পোস্টে থাকেনি। আর যোগ করা সময়ে আফিদার আরেকটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খোলসে ঢুকে পড়ে ভারত। কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর কৌশলে তারা মনোযোগী হয় ঘর সামলানোয়। তাতে মাঝমাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাংলাদেশের কাছে। সেটা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ রচনা করে স্বাগতিকরা। ভারতের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষা নিতে একের পর এক সেট পিস নিতে দেখা গেছে স্বপ্না রানীকে। সিনিয়র জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের ফ্রি-কিক কিংবা কর্নারগুলো অবশ্য দারুণ দৃঢ়তায় রুখে দেয় ভারতের ডিফেন্ডাররা। তাদের গোলকিপার আনিকা দেবীও বারবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে স্বপ্নার ভয়ংকর কর্নার কোনোমতে ফিস্ট করেন আনিকা। ফিরতি বলে আফিদার এলেমেলো শটে সুযোগ নষ্ট হয়। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আনিকার কৃতিত্বে ফের হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।

স্বপ্নার ফ্রি-কিকে সুরমা জান্নাতের হেড শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন ভারত কিপার। এর তিন মিনিট পর গোলের সেরা সুযোগ নষ্ট করেন মুমকি আক্তার। এবার অবশ্য আনিকা মহাভুল করে বসেছিলেন। তার ভুলে পাস পেয়ে যান মুমকি। দ্রুত বক্সে ঢুকে ডান দিকে সাগরিকাকে পাস না বাড়িয়ে নিজে গোলের চেষ্টা করেন। তবে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত আনিকা করেছেন মুমকিকে গোল করতে না দিয়ে। পরের মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ভারত ফরোয়ার্ড পুজা বাংলাদেশ কিপার স্বর্ণা রানীকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। তাতে বেশ মনে হচ্ছিল ম্যাচটা গোলহীন ড্রয়ে শেষ হবে। কিন্তু সেটা হয়নি আফিদার বুদ্ধিদীপ্ত অ্যাসিস্ট আর সাগরিকার অসাধারণ ফিনিশে। ভারতের ডিফেন্স লাইনকে এগিয়ে থাকতে দেখে নিজেদের অর্ধ থেকে আফিদা লং বল ফেলেন। অফসাইট ট্র্যাপ ভেঙে সাগরিকা বক্সে ঢুকে ভারত কিপারকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ জয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত