বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মাঝামাঝি পর্যায়ে আসতে আসতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্লে-অফের চারের রূপরেখা। ম্যাচ শুরুর আগেই রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে দুর্দান্ত ঢাকার যে ব্যবধান ছিল, তাতে হারজিতে শেষ চারের সমীকরণে খুব একটা প্রভাব পড়ত না। তলানির দল ঢাকার বিপক্ষে রংপুরের ৬০ রানের জয়ের চেয়েও বড় স্বস্তি সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ডার সত্তার প্রত্যাবর্তন। সাকিব ওয়ান-ডাউনে নেমে করেছেন ২০ বলে ৩৪ রান, বোলিংয়ে ১৬ রানে ৩ উইকেট। বিপিএলে রংপুরের হয়ে ৬ নম্বর ম্যাচে এসে সাকিব ফিরলেন স্বমহিমায়।
চোখের সমস্যা ভোগাচ্ছিল বিশ্বকাপ থেকেই। এরপর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা বিপিএল দিয়ে। বিলেত আর সিঙ্গাপুরের ডাক্তার দেখিয়ে আসা সাকিব বোলিংয়ে সাফল্য পেলেও ব্যাটিং নিয়ে ভুগছিলেন। দুটো ইনিংসে আউট হয়েছেন ২ রান করে, দুই ইনিংসে ব্যাট করতেই নামেননি আর কালকের আগে সবশেষ ইনিংসে আউট হয়েছেন ০ তে। কালই সাকিব এবারের বিপিএলে প্রথম চার-ছয়ের দেখা পেলেন। ২০ বলে ৩৪ রান, ১ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায়; খুব অসাধারণ কিছু নয় তবে সাকিবের এর আগের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তার রানে ফেরাটা স্বস্তি দিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এসে জানালেন, ‘আগের দিন অনুশীলনেই এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়। টি-টোয়েন্টি খেলা, সময় কম থাকে, তো ওভাবেই (পরিকল্পনা) করছিল। সে নিজে থেকে চাচ্ছিল একটু সময় নিয়ে ব্যাটিং করতে, শেষ দিন অনুশীলনের সময় সে বলেছে তিনে ব্যাটিং করলে ভালো হবে, আমার কাছে মনে হয় পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে এই সাপোর্ট দিয়েছে।’
সাকিবের রানে ফেরার সঙ্গে রনি তালুকদারের রানে ফেরাটাও স্বস্তি দিয়েছে রংপুরকে। দুটো ম্যাচ একাদশের বাইরে থাকার পর ফিরেছেন রনি, ২৪ বলে ৩৯ রান করে ঘুচিয়েছেন অস্বস্তি। সোহান জানালেন, রনি নিজেই চেয়েছিলেন বিরতি, ‘আমার সঙ্গে রনি ভাইয়ের মাঝখানে কথা হচ্ছিল, আমরা খুব ভালো করেই জানি রনি ভাই কী টাইপের খেলোয়াড়। তার একটা ব্রেক দরকার ছিল। আমার মনে হয় রেস্টটা তার ভালোমতো কাজে লেগেছে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, সেও খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং বলছিল যখনই সুযোগ পাবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
সাকিব আর রনির রানে ফেরার ম্যাচে রংপুর টসে হেরে আগে ব্যাট করে তোলে ৪ উইকেটে ১৭৫ রান। বাবর আজম তার বিপিএলের এই মৌসুমের শেষ ম্যাচে করেছেন ৪৭ রান। সঙ্গে সোহানের ১০ বলে ১৬ আর মোহাম্মদ নবীর ১৬ বলে ২৯ রানে রংপুরের সংগ্রহ ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৫ যা আসরে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।
জবাবে পুরো আসর জুড়েই ব্যাটিং নিয়ে ভুগতে থাকা দুর্দান্ত ঢাকা অলআউট মাত্র ১১৫ রানে। একদিকে নাঈম শেখ ৩১ বলে ৪৪ রান করে কিছুটা মানসম্মান বাঁচালেও বাকিরা ব্যর্থ। নবাগত সাব্বির হোসেন শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীর কল্যাণে জীবন পেলেও ১ রানের বেশি করতে পারেননি। পাকিস্তানের আগামীর তারকা যাকে বলেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, সেই সাইম আইয়ুব করেছেন ২ রান, অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশের ‘সুইপোলোজিস্ট’ অ্যালেক্স রস করেছেন ২, অধিনায়ক মোসাদ্দেক করেছেন ১। এমন সামগ্রিক ব্যর্থতার পর ম্যাচের ফল নিয়ে রোমাঞ্চ শুরুতেই উধাও। আসরের প্রথম ম্যাচটা জেতার পর টানা পঞ্চম হার ঢাকার। কোনো ম্যাচে দলীয় সংগ্রহ ১৫০ রানেও যায়নি। কেন এমন বেহাল দশা, সেটা জানতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ান রিক্রুট রস জানালেন, ‘কেন খারাপ হচ্ছে সেই সমাধান যদি জানতাম তাহলে তো সেটা কাজেই লাগাতাম। এই মুহূর্তে আমরা একটা সাফল্যের রেসিপি খুঁজছি আর সবকিছু ঠিকঠাক মতো করার চেষ্টা করছি।’
তবে সেসব এখনো দূরের বাতিঘর। এই ম্যাচ খেলেই শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের খেলার জন্য চলে যাবেন গুলবদিন নাইব। আজ সিলেটের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পিএসএল খেলতে চলে যাবেন সাইম আইয়ুবও। চট্টগ্রাম পর্বে পা রাখতে রাখতে খুব সম্ভবত প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকেই যাবে দুর্দান্ত ঢাকা। ১৮ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট হয়ে সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করে তুলছে ঢাকা, বাজে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজে ফিল্ডিংও যার খেসারত দিয়েছে রাজধানীর দলটি, ‘সাকিবের ইনিংসটা ভালো। আমরা দুইবার তাকে জীবন দিয়েছি। একবার তার কট বিহাইন্ড হয়েছে যেটা আমরা ছেড়েছি, বিগ স্ক্রিনে দেখিয়েছে ধরলে সে আউট ছিল। বাউন্ডারি লাইনেও তার ক্যাচ পড়েছে। সার্বিকভাবে বড় খেলোয়াড়দের এতটা সুযোগ দেওয়া যায় না।’ সাকিব জীবন পেয়ে কাজে লাগিয়েছেন সুযোগ আর সাব্বির হোসেন পারেননি। তফাতটা সেখানেই।
