গত শনিবার রাতে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে নেয়া সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত সমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বহিরাগত ও অছাত্রমুক্ত নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিতকরণে শিক্ষক সমিতর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন সঞ্চালনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শাহেদ রানা।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইন্সটিটিউট অব বিজনেস আ্যডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ-জেইউ) এর অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত, লজ্জিত এবং ক্ষুব্ধ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কিছু কুলাঙ্গার। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে সেটাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমরা সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই এই ঘটনায় তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু অতীতেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে, গ্রেপ্তার হয়েছে কিন্তু সঠিক বিচার হয় নি, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই এই ঘটনায় যারা যুক্ত সবাইকে সঠিক বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখানে বাইরের মানুষ আসবেই কিন্তু যারা আসবে শুধুমাত্র শিক্ষা এবং গবেষণার কাজে। অন্য কোনো কাজ এখানে থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় তড়িৎ গতিতে যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটাকে আমর সাধুবাদ জানাই কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন যেন আমরা দেখতে পাই। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে যেনো সকল অছাত্র,বহিরাগত, কুলাঙ্গার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যায়। আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াইহাজার অছাত্র হলে রয়েছে, এদেরকে আমরা কেনো বের করতে পারছি না? ৫২ ব্যাচকে আবার গণরুমে পাঠাতে হলো কেনো? গণরুম তো জাদুঘরে চলে গিয়েছিলো আমরা কি আবার সেটাকে দেখার জন্য ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি? আমরা যেভাবেই হোক আমরা গণরুম মুক্ত, বহিরাগত মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই।’
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রববানী বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করে দাবি জানিয়েছি। সিন্ডিকেট থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তবে এই সিদ্ধান্তে কিছু ত্রুটি রয়েছে আমরা সেটা অবহিত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান যে সংকট তার মূলে রয়েছে ক্যাম্পাসের আড়াইহাজার অবৈধ শিক্ষার্থী নানা সংগঠনের ছত্রছায়ায় রয়েছে। প্রশাসনের মদদে বসবাস করছেন।তাদেরকে বিতাড়িত করা ছাড়া কোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন তার হাতে এখনো তিনদিন সময় আছে তিনদিনের মধ্যে যেকোনো মূল্যে তিনি বাস্তবায়ন করবেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন অতীতের মধ্যে তালবাহানা করে তবে আমরা একদফা আন্দোলনে যাব। ক্যাম্পাসের অবৈধ শিক্ষার্থীরা চাদাবাজি করে, টেন্ডারবাজি করে, বাইরে থেকে তুলে এনে মারধর করে, পরিবহন থেকে টাকা তোলে। বাইরে থেকে তুলে এনে এই ক্যাম্পাসের পবিত্র হলে জিম্মি করে টাকা নেয়। এখানে একটি চক্র গড়ে উঠেছে যার সাথে এই অবৈধ অছাত্ররা জড়িত। যারা মাদকাসক্ত, নেশাগ্রস্ত তাদের দিয়ে যেকোনো অবরাধ করা সম্ভব। ক্যাম্পাসে একটি মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রত্যেকটি হল অবৈধ শিক্ষার্থীদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রাধ্যক্ষ বলতে পারবেন না তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, আসন বণ্টন করেন। তারা এই অবৈধ অছাত্রদের দিয়ে রেখেছেন।’
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী বলেন, ‘ আমরা ধর্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বিচার যেমন চাই, তেমনই এই বিশ্বিবদ্যালয়ে যেন এমন ন্যাক্যারজনক ঘটনা আর না ঘটে তার একটি প্রস্তুতি আমরা দেখতে চাই। রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষক মোস্তাফিজুরের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পাশাপাশি মোস্তাফিজুরকে পালাতে যারা সাহায্য করেছিল তাদের তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা চাই।যদি ধর্ষককে পালিয়ে যেতে হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর সহয়তা করে থাকে তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচারও আমরা চাই। আমাদের উদ্দেশ্য যেন না হয় একটি মানববন্ধন করা। উদ্দেশ্য হতে হবে ধর্ষকদের বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জাগ্রত থাকা।’
