চট্টগ্রামে দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে করা এক মামলায় চার নকল নবীশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (১ম আদালত) জুয়েল দেব এ আদেশ দেন। দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল বারি।
এর আগে গত বছরের ২৭ মে আদালতে জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দেন গোলাপ খাতুন নামে এক নারী। তার বাড়ি নগরের আকবর শাহ থানাধীন কাট্টলি এলাকায়। সেদিন আদালত তার অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ রাশেদ (৪০), মো. ইমরান হোসেন (২৭), সুমন চৌধুরী (৩৩) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০)। তারা সকলেই পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, বাদী গোলাপ খাতুন একজন প্রবাসী। ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক সম্পত্তি বন্টননামা করে পাহাড়তলী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। বাদী পক্ষ দলিলের ১৪ পৃষ্ঠায় বসতঘরের পরিমাণ ২২ ফুট ৮ ইঞ্চি সুস্পষ্টভাবে লিখা আছে। সে মোতাবেক তারা জায়গাটি ভোগদখলে রেখেছেন।
ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বাদী তার জমির দলিলের নকল সংগ্রহ করেন। এরপর ২০১৮ সালেই বিদেশ চলে যান। ২০২২ সালে দেশে ফেরার পর জমি নিয়ে রাশেদের সাথে বাদী গোলাপ খাতুনের কথা কাটাকাটি হয়। বিবাদী তখন দলিলের ১৪ নং পৃষ্ঠা দেখিয়ে গোলাপ খাতুনকে বলেন, জমির পরিমাণ ২২ ফুট ৮ ইঞ্চির পরিবর্তে ২২ ফুট লেখা আছে। অথচ দলিলের নকল কপিতে জমির পরিমাণ স্পষ্টভাবে ২২ ফুট ৮ ইঞ্চি লেখা আছে।
এতে বাদীর সন্দেহ তৈরি হয়। তখন তিনি পাহাড়তলী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রেকর্ড বালাম যাচাই করে দেখেন সেখানে ৮ ইঞ্চিকে ঘষামাজা করে জমির পরিমাণ শুধু ২২ ফুট করে দেয়া হয়েছে। মূলত রাশেদ পেশায় একজন নকল নবিশ। চাকরির সুবাদে তিনি বাকি তিন সহযোগীকে নিয়ে বিবাদীকে ঠকানোর জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী ফজলুল বারি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
