স্মার্ট জাতি গঠনে সৃজনশীল বইয়ের বিকল্প নেই

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১০ এএম

অন্বেষা প্রকাশনের শাহাদাত হোসেন। প্রকাশক হবেন এমন স্বপ্ন ছিল না, তবে বই পড়ার আগ্রহ শৈশব থেকেই। বইয়ের টানে নিয়মিত যেতেন বাংলাবাজারে। সেখান থেকেই শখের বশে প্রকাশক হয়ে এখন সব ধ্যানজ্ঞান প্রকাশনা ঘিরে। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে দ্বিতীয় দশক পূর্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অর্জনগুলোর কথা বলছিলেন শাহাদাত ‘হুমায়ূন স্যারের পা-ুলিপি হাতে পাওয়ার পর মনে হয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্জন আমার এটাই। হাসান আজিজুল হক, সরদার ফজলুল করিম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বা অন্য অনেক বিখ্যাত লেখকের বই পাওয়ার পর একই অনুভূতি হয়েছে। বইয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগও বড় অর্জন বলে মনে করি।’

অন্বেষা প্রকাশন জিতেছে বাংলা একাডেমির মুনির চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, অস্ট্রেলিয়ান লিটারেচার সোসাইটি পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা। কেমন বই প্রকাশ করেন জানতে চাইলে প্রকাশক শাহাদাত বললেন, ‘আমরা বই প্রকাশ করি বিষয়বস্তু বিবেচনায়। অর্থাৎ গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, মোটিভেশনাল, দর্শন, অনুবাদ সাহিত্যসহ নানা বিষয়ভিত্তিক বই প্রকাশে আমরা আগ্রহী।’

এ বইমেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করছে অন্বেষা প্রকাশন। ৬০টি নতুন বই নিয়ে মেলায় থাকছে প্রকাশনাটি। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি নতুন লেখকদের বইও করছে অন্বেষা। গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর কয়েকটার নাম জানতে চাইলে শাহাদাত বলেন, ড. আমিনুল ইসলামের ১০১ ইনট্রোডাকশন টু বাংলাদেশ; আরিফুর রহমানের উপন্যাস সাউদার্ন ভ্যালি ওয়ে; জাহাঙ্গীর আলম জাহিদের চিত্তদাহ; কামরুল আহসান জুয়েলের রেমিটেন্সযোদ্ধার ক্রন্দন; জুনায়েদ ইসলামের গ্রথিক থ্রিলার ক্রিমসন; ডা. মো. শহীদুল হকের পরামনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস পরাবাস্তব; জাহিদ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস দেশভাগ ১৯৪৭; আবুল আহসান চৌধুরীর মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যকর্ম ও সমাজচিন্তা; ড. মোহাম্মদ শাহ্ হাফেজ কবিরের যদি গবেষণা করতে চাই; নুসরাত জাহানের বাংলাদেশ ও লোকসংস্কৃতি : হস্তশিল্পের বিস্তার; সুজয় কুমার দাশের দ্য মাঙ্গা গাইড টু বায়োকেমিস্ট্রি; রাসেল এ কাউসারের হ্যালো ডিজিটাল মার্কেটিং; শাকিল বিশ্বাসের সেল ইয়োর ব্রেইন; ফজলে রাব্বির হ্যাক হ্যাকার হ্যাকিং হ্যাকড এর কথা। বইয়ের প্রচারণা নিয়ে কী কী পদক্ষেপ এবার নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনলাইন প্রচারণায় আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ ছাড়া জেলাভিত্তিক বইমেলা বই প্রচারে ভূমিকা রাখছে।’

প্রকাশক হিসেবে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন জানতে চাইলে হাস্যোজ্জ্বল এ প্রকাশক বলেন, ‘আমাদের বইয়ের মার্কেটগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি জেলায় সৃজনশীল বইয়ের দোকানগুলো কমে যাচ্ছে। বড় বড় বিপণিবিতানে কোনো বইয়ের দোকান নেই। উপজেলাভিত্তিক কোনো সরকারি লাইব্রেরি নেই। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, স্মার্ট জাতি গঠনে সৃজনশীল বইয়ের বিকল্প নেই। সরকার এ ক্ষেত্রে আরও কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সৃজনশীল প্রকাশনা এগিয়ে যাবে।’

বই প্রকাশে আগ্রহী লেখকদের কাছে অন্বেষার কী প্রত্যাশা থাকে বলতে গিয়ে শাহাদাত বলেন, ‘বইয়ের পা-ুলিপি বইমেলার অন্তত ছয় মাস আগে জমা দিলে নির্ভুল ভালোমানের বই উপহার দেওয়া সম্ভব হয়। বিষয়ভিত্তিক পা-ুলিপি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অনুবাদ সাহিত্য, মোটিভেশন, ইতিহাস, রেফারেন্স, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নৃবিজ্ঞান, দর্শন, সুফিজম, মেডিকেল ইত্যাদি বিষয়ে মানসম্মত পা-ুলিপি পেলে নিঃসংকোচে প্রকাশে আমরা আগ্রহী থাকি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত