রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা পরিবর্তন কিংবা ব্যবসার পণ্য স্থানান্তরের নামে তা গায়েব করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আর এ কাজে জড়িত একাধিক চক্র। এমনই একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ডিবি বলছে, মালিকের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে বিক্রি করে দেয় এ চক্রের সদস্যরা। তারা নিজেদের আড়াল করতে মালামাল পরিবহনের সময় গাড়ির ভুয়া কাগজপত্র ও ভুয়া নম্বরপ্লেট ব্যবহার করে। কাজ শেষ হলে তারা গাড়ির রঙ ও নম্বর পরিবর্তন করে নতুন কোনো টার্গেট বেছে নেয়। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল এ চক্রটি। গতকাল শনিবার ডিবি কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, কেরানীগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবির মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলো মো. রাজিব হোসেন (২৪), মো. রাকিব হোসেন (৩০), চয়ন কুমার ঘোষ (৩২) ও মো. রেজাউল করিম (৪৫)। তাদের গ্রেপ্তারের সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও হাতিয়ে নেওয়া ৬৫টি ব্যাটারি উদ্ধার করেছে ডিবির দলটি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি চক্র রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে ট্রাকে খাদ্যশস্য, ব্যাটারি বা বাসা পরিবর্তনের মালামাল পরিবহনের জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তারা মালিকের কাছ থেকে মাল বুঝে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে বিক্রি করে দিত। তারা নিজেদের আড়াল করতে মালামাল পরিবহনের সময় গাড়ির ভুয়া কাগজপত্র ও ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করত। কাজ শেষ হলে তারা গাড়ির রঙ ও নম্বর পরিবর্তন করে আরেকটি টার্গেট নির্ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।’
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চলতি মাসের ১ তারিখ খুলনার সোনাডাঙ্গার এক ব্যবসায়ী নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ৩৫৫টি ব্যাটারি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার সুমন এন্টারপ্রাইজের উদ্দেশ্যে ভাড়া ট্রাকে পাঠান। সঙ্গে তার কর্মচারী বিষ্ণু বিশ্বাসকে পাঠান। সাড়ে ১৫ হাজার টাকায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসে তারা। কিন্তু এরপরই বদলে যায় তাদের গন্তব্য। মুন্সীগঞ্জের বদলে তারা কৌশলে কর্মচারী বিষ্ণুকে নামিয়ে দিয়ে নিজেদের গন্তব্যে চলে যায়। এরপর ৩৫৫টি ব্যাটারির মধ্যে ২৯০টি তারা রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করে দেয়।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘এ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মার্কেটে চোরাই পণ্য বিক্রি করত। আমরা বেশ কিছু নাম ও ফোন নম্বর পেয়েছি। যারা চোরাই পণ্য কেনে, তারাও চুরির মামলার আসামি হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলতে চাই যেকোনো পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।’
গ্রেপ্তার চারজনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসান বলেন, ‘তারা নিজেদের আড়াল করতে মালামাল পরিবহনের সময় গাড়ির ভুয়া কাগজপত্র ও ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে। যার প্রমাণ পেয়েছি খুলনা থেকে আনা পণ্য বিক্রির পর রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকার মেরুল বাড্ডা বাঁশপট্টি এলাকায় রঙ পরিবর্তন করার সময়ে হাতেনাতে জব্দ করা ট্রাকটিতে। যাতে লাগানো পূর্বের নম্বর প্লেট ছিল না।’
রাশেদ হাসান আরও বলেন, ‘এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া যারা তাদের কাছ থেকে এসব চোরাই মালামাল কেনে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
