‘ওরা আমার প্রীতিকে মেরে ফেলল’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম

‘আমরা চা শ্রমিক। অভাবের সংসারে কোনোরকম বেঁচে আছি। পরিবারের স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে দুই বছর আগে সাংবাদিক মিন্টুর মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক সাংবাদিকের বাসায় কাজে পাঠাই মেয়েটিকে। সাংবাদিক মিন্টুর কথায় আমার মেয়েটিকে কাজে দিলাম। ঢাকায় ওরা আমার মেয়েটিকে মেরে ফেলল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ কথা বলছিলেন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুরে ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসার ভবন থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া কিশোরী গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মা নমিতা উরাং।

আজ রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নিহত প্রীতির নিজ গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা চা বাগানে গেলে তার পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের দাবি, তাদের মেয়ে প্রীতিকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত প্রীতি উরাংয়ের বাবা লোকেশ উরাং দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই বছর পূর্বে সাংবাদিক মিন্টু দেশোয়ারা আমাদের মেয়েকে ঢাকায় ভালো কাজ আছে বলে এক সাংবাদিকের বাসায় নিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে মেয়েটির সঙ্গে কথাও হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে হঠাৎ করে সাংবাদিক মিন্টু আমাদের শ্রীমঙ্গলে একটি মিটিংয়ে নিয়ে যাবে বলে জানায়। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পর অন্য একটি গাড়িতে করে ঢাকায় মেয়ে অসুস্থ বলে নিয়ে যান। কিন্তু গিয়ে দেখি আমাদের মেয়েটি আর নেই। আমার মেয়েটিকে হত্যা করেছে ওরা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুটি আসলেই দুঃখজনক। প্রীতি যে ঢাকায় কাজ করতে গেছে, সেটা বাগানের কেউই জানে না। প্রীতির মামা ও সাংবাদিক মিন্টু গোপনে তাকে ঢাকায় পাঠায়। আমি প্রীতি হত্যায় জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল বলেন, ‘শুনেছি প্রীতির ওপর আগে থেকেই মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় প্রীতি আজ আমাদের মধ্যে নেই। চা শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রীতি হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসার ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটে কিশোরী গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের। এ ঘটনায় পরদিন বুধবার সকালে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন প্রীতির বাবা লোকেশ উরাং। মামলায় সাংবাদিক আশফাকুল ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে আসামি করা হয়। পুলিশ সাংবাদিক দম্পতিকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। প্রীতির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চা শ্রমিকরাসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভাও করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত