ইন্দোনেশিয়ার ৩২ বছরের স্বৈরশাসক জেনারেল সুহার্তোর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে নব্বইয়ের দশকে পরিচিত ছিলেন বুদিমান সুজাতমিকো। সেই সুজাতমিকো আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর পক্ষে যিনি সুহার্তোর শাসনামলের গণবিরোধী নানা কর্মকান্ডে অভিযুক্ত।
আগামী বুধবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সুবিয়ান্তোর প্রচারের অন্যতম নেতা বুদিমান সুজাতমিকো বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল কর্তৃত্ববাদ। আমাদের তখন গণতন্ত্র প্রয়োজন ছিল। আজ আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অসমতা ও পশ্চাৎপদতা।’
সুহার্তোর মেয়েজামাই সুবিয়ান্তো ওই সময় বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে ১৯৯৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে এখন সুজাতমিকো বলছেন, ‘২৫ বছরে মানুষ বদলেছে, যেভাবে আমিও বদলেছি।’
ইন্দোনেশিয়ায় এবার যে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭২ বছর বয়সী নেতা প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো, সেন্ট্রাল জাভার সাবেক গভর্নর ৫০ বছর বয়সী প্রার্থী গানজার প্রানোয়ো এবং জাকার্তার সাবেক গভর্নর ৫৫ বছর বয়সী প্রার্থী আনিয়েস বাস্বেদান। এর মধ্যে সুবিয়ান্তো ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী। ভোটারদের সাড়াদানের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জরিপ ও গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সুবিয়ান্তোই এগিয়ে রয়েছেন। এ নির্বাচনে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সমর্থন লাভের বিনিময়ে তার ছেলেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। অনেকে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে এখন তারাই প্রভাবশালী যারা সুহার্তোর শাসনামলে সম্পদশালী হন। বিশে^র অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির রাজনীতিতে কর্তৃত্ব করছেন তারাই। সুহার্তোর শাসনের পতনের আগের কয়েক মাস সময়ের মধ্যে ১৯৯৮ সালে পাইয়ান সিয়াহানের ছেলে উকক গুম হন। ওই সময় প্রাবোয়োর বাহিনী ২৩ আন্দোলনকর্মীকে অপহরণে অভিযুক্ত ছিল। এর মধ্যে একজন মারা যায় এবং ১৩ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। পাইয়ান বলেন, ‘আমি প্রাবোয়াকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আমার ছেলে কোথায়? আমার ছেলে যদি মারা যায়, সে কোথায়?’
