কবরস্থান দখলের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় পিটুনি

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম

কুমিল্লার বরুড়ায় কবরস্থানের জায়গা দখল করতে না দেওয়ায় এক প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাদের একরকম বাড়ি ছাড়া করা হয়। ঘটনাটি জেলার বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের বেজিমারা গ্রামের।

আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এসব অভিযোগ করেন প্রবাসীর মা ছালমা বেগম ও বাবা মোশারফ হোসেন। 

প্রবাসীর বাবা মোশারফ হোসেন জানান, তার পূর্বপুরুষরা বেজিমারা জামে মসজিদের জন্য জমি দান করেন। পাশে আরও জমি রেখে যান কবরস্থান করার জন্য। কালক্রমে পূর্বপুরুষদের পর জমিজমার দায়িত্ব পড়ে মোশারফ হোসেনের ওপর। কয়েক বছর আগে মোশারফের কাছে পার্শ্ববর্তী বাড়ির একটি চক্র রাস্তা করার জন্য জমি চায়। কিন্তু এতে মোশারফ অস্বীকৃতি জানায়। এর কয়েকদিনের মাঝেই মসজিদ কমিটি ওই জায়গা ঈদগাহ করার জন্য চেয়ে বসে। এই জমি মূলত ওই চক্র দখল করতে জায়গাটি নিতে চায়। রাজি না হওয়ায় এই ঘটনার রেশ ধরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফটক ভেঙে বাড়ির ভেতর ঢুকে মোশারফ, তার স্ত্রী ও তার মেয়েকে হামলা করে স্থানীয় জামাল, দিদার, বাদন, বোরহান, হাবিব, মহিন, নাসির। তারা হামলার সময় মোশারফ ও তার স্ত্রীকে রামদা, চেনি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। যখন মোশারফ ও তার স্ত্রী হাসপাতালে এসময় তার বড় মেয়ে, তার স্বামী ও ছোট মেয়ের ওপর হামলা করে মুখোশপরা একদল দুর্বৃত্ত। কিন্তু মারধরের সময় মুখোশ খুলে যাওয়ায় চিনে যায় তারা দুপুরে হামলা করা দিদার, জামাল, বাদন, বোরহান, হাবিব, মহিন, নাসির। ওইসময় তারা এই প্রবাসীর বাড়ির লোকেদের ওপর রামদা, চেনি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা ও ঘরের টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। মারধর চলাকালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এঘটনায় আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। যার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরুড়া থানা পুলিশকে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাদেক হোসেন বলেন, প্রবাসী জাকারিয়াদের পরিবারের দান করা জায়গায় মসজিদ করা হয়েছে। গ্রামের কিছু মানুষ তাদের সুবিধার্থে আরও জায়গা চায়। কিন্তু জাকারিয়া ও তার বাবা মোশারফ এতে রাজি নয়। তাই তাদের ওপর একটি প্রভাবশালী চক্র হামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, জাকারিয়া প্রবাসী। তার পরিবারে পুরুষ মানুষ নেই তাই একটি শক্তিশালী মহল তাদের পরিবারের ওপর হামলা করেছে। মুখোশ লাগিয়ে রাতে হামলা করা হয়েছে।

মোশারফের স্ত্রী ছালমা বেগম বলেন, এমন ঘটনা আগে কখনও শুনিনি। আমরা জমি বিক্রি করব না। তাই জোর করে জমি নিতে আমাদের হামলা করেছে। আমার মাথায় ১৭টা সেলাই লেগেছে। কোনো উপায় না পেয়ে কোর্টে মামলা করেছি। দেশবাসীর কাছে জীবন ভিক্ষা চাই। একই দিনে দুবার হামলার পর আমার মেয়ে আর বাড়ি যেতে চায় না। শহরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আর পেরে উঠছি না। কদিন পর পর হামলা করে তারা। অথচ মসজিদের পশ্চিম পাশের এই মসজিদেরই ইমাম সাহেবের বড় জায়গা আছে। ওইটা নিয়ে উনাকে অন্য কোথাও জায়গা দিয়ে দিলেও ক্ষতি ছিল না। তারা মসজিদের সামনে আমাদের কবরস্থানের জায়গাটা সংরক্ষণের দেয়ালও করতে দিচ্ছে না। 

মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজ মিয়া বলেন, হামলার কথা শুনেছি। এভাবে হামলা করা উচিৎ হয়নি। হামলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা মসজিদের জন্য জায়গা চেয়েছি। কিন্তু আমরা তাকে জোর করিনি। দেয়াল করার সময় নিষেধ করেছি। দেয়াল না করলে মসজিদের সৌন্দর্য ঠিক থাকে তাই।

তিনি আরও বলেন, আর তাদের বাধা দেব না। এটা তাদের ব্যক্তিগত জায়গা। আমাদের এমপি সাহেবও বিষয়টা জেনেছেন। আমরা চাই সব প্রবাসী শান্তিতে থাকুক।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি রাতের ঘটনায় পুলিশ ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের মামলার তদন্ত করার জন্য নথি পেয়েছি। অপরদিকে তাদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। আমরা দুটিই তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে ঘটনার নেপথ্যে কারা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত