গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ এই সব বিষয়ের উপলব্ধি এখন বদলে গেছে। বলা যায় অধিকাংশ রাষ্ট্রের মধ্যে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ জাতীয়ভাবেই এইরকম একটা ব্যবস্থা বিরাজমান। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কোনো ন্যায়নীতি নেই। জাতিসংঘ যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তারা কোনো কাজের কাজ করতে পারছে না। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এবং তথ্য-প্রযুক্তির সংশ্লেষণের ফলে রাষ্ট্র, জাতি ও জনজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। সমন্বয়মূলক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলা এই পরিবর্তনের মধ্যে চিন্তার জায়গা কম। সমস্যাটি কেবল বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বই এর মধ্যে রয়েছে। তবে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক চিন্তা আগে থেকেই খুব কম। ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্বও আমাদের জাতি খুব অল্প সময়ই পেয়েছে।
একটা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতার নেতা বঙ্গবন্ধু বহুবার গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। কিন্তু তিনিও গণতন্ত্র সম্পর্কে স্লোগানের বাইরে গভীরতর কথা বলেননি, লিখেননি। মানুষের চিন্তাচেতনা অত্যন্ত জটিল এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাও খুব কঠিন কাজ। বঙ্গবন্ধু অনেক কিছুই করেছেন, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ বলি কিংবা ভাসানী ও মুজাফফর আহমেদের ন্যাপের দুই অংশ আর যেসব বামপন্থি দল ছিল সবার কাছেই গণতন্ত্র ছিল মুখের কথা মাত্র। কিন্তু এর বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব, সর্বজনীন কল্যাণ কীভাবে সম্ভব এই ব্যাপারে কারও কোনো আকর্ষণীয় বক্তব্য, প্রস্তাব আমি দেখিনি। তাদের বইপত্রেও পাইনি। গণতন্ত্র শব্দটা সেই রামমোহন থেকে আরম্ভ করে, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বেগম রোকেয়া, এস ওয়াজেদ আলী, প্রমুখ পর্যন্ত এ রকম যারা হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়েরই শ্রেষ্ঠ লেখক (কিছু আগে-পরে) আছেন আমাদের, তাদের রচনাগুলোতেও খুঁজে পাওয়া যায় না। এই বাস্তবতার মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের যাত্রা।
বঙ্গবন্ধুর কথা তো শুরুতেই বললাম। কিন্তু জিয়াউর রহমান, এমনকি এরশাদ পর্যন্ত গণতন্ত্রের কথা মুখে মুখে খুব বলেছেন। তারা সামরিক বাহিনী থেকে এলেও তাদের উপলব্ধি বেশ গভীর ছিল এবং সবচেয়ে বড় হলো তাদের মধ্যে একটা জাতীয়তা বোধ ছিল। আর রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণেই তো মিলিটারিরা ক্ষমতায় এসেছিল এই দেশে। মিলিটারিরা কি যেকোনো সময়, যখন তখন ক্ষমতা দখল করে কোথাও? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন যেমন রূপে আছে, তখনো ছিল কিন্তু রূপটি ছিল ভিন্ন। তারাই মিলিটারিদের উসকানি দিয়ে, যোগাযোগ করে মার্শাল ল’ জারি করাত। কিন্তু ১৯৮০ দশকের একটা সময় থেকে আমেরিকা তার এই লাইন বাদ দিয়ে অন্য দিকে গিয়েছে। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামানের ‘Military Withdrawal from Politics’ শিরোনামের বইতে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে। গণতন্ত্রই সব দেশের সব মানুষই চাইত, কিন্তু মাঝে মাঝেই মিলিটারি শাসন হয়েছে, সামরিক আইন জারি হয়েছে। তিনি এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার নানান দেশের বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে লিখেছেন যে এত সাল থেকে এত সালের মধ্যে এতটা সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে এত সংখ্যক রাষ্ট্রের মধ্যে। এবং সেখানে মার্কিন ভূমিকাও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু পরে আমেরিকা তার নীতি বদলে এখন ভিন্নভাবে কাজ করছে। এই জায়গায় আমরা দেখলাম এনজিও এবং সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন গড়ে উঠছে আমাদের দেশে ১৯৮০’র দশক থেকে।
এনজিওগুলো শেষ পর্যন্ত গরিব লোকদের মধ্যে অর্থনৈতিক কাজ করে। কিন্তু আমাদের দেশে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার ভেতর দিয়ে অনেক জটিল একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে। অন্য যেসব বড় সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন ছিল, সেগুলোও নানা ভাবে এখন পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ব্র্যাককে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনজিও বলা হতো, ব্র্যাকের কার্যকলাপও পরিবর্তন হয়ে গেছে, আরও পরিবর্তন হবে। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর দ্বারা আমাদের রাজনীতির গতি কেবলই নিচের দিকে গিয়েছে। এই যে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন বা নাগরিক সংস্থার যেসব মানুষ তারা অনেকেই খুব জ্ঞানী লোক, বলা যায় আমাদের দেশের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক। তারা সরাসরি নির্বাচনে দাঁড়ান না, রাজনীতিতেও আসেন না। কিন্তু তারা অনেক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করেন, নানানভাবে নানান কৌশলে করেন এবং সব ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই দেখা যায় যে তাদের কথা অনুযায়ী তো ফল ভালো হচ্ছে না, কাজও হচ্ছে না। এমনকি তারা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা যেভাবে হাজির করেন এবং যেসব ফলাফলের ধারণা দেন সেসবও কার্যকর হয় না। আবার একসময় যে কথা বলতেন, এখন আর সে কথা বলেন না। যেমন, একসময়ে ‘যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন’ সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের লোকেরা খুব করেছেন এবং বিপুল টাকা খরচ করেছেন। প্রত্যেকটা জেলায় গিয়ে গিয়ে তারা বিরাট বিরাট সব ‘বুদ্ধিজীবী বক্তৃতা’ দিয়েছেন। এর রেজাল্ট হলো কী? আগে নির্বাচনের জন্য হতো তিন মাসের জরুরি অবস্থা, পরে সেটা দেখলাম প্রায় দুই বছরে গিয়ে ঠেকল। যেটাকে আমরা ১/১১ নামে চিহ্নিত করে আসছি। এর পেছনে ‘যোগ্য প্রার্থী আন্দোলনকারী’ সিভিল সোসাইটির ভূমিকা আছে। আমি মনে করি যে, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলো যে সূত্র থেকে টাকা পান অর্থাৎ যারা টাকা দেয় তারা কিছু শর্ত দিয়ে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি কোনো ভালো নীতি আছে দরিদ্র দেশগুলোর ওপরে? সে কেবল কর্তৃত্ব করতে চায়, বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এখানে গণতন্ত্র কী এবং গণতন্ত্র কী নয় এই সম্পর্কে ধারণাটা অনেক ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
গণতন্ত্র নিয়ে এমন সমস্যা কেবল বাংলাদেশের না। পৃথিবীর শতাধিক গরিব রাষ্ট্রের, জাতির মধ্যেই গণতন্ত্র নিয়ে দুরবস্থা বিরাজমান। বড় শক্তি অর্থাৎ পশ্চিমা, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য জি৭ যে কর্র্তৃত্ব করছে, তাদের দেশেও গণতন্ত্রের সমস্যা আছে, তবে তার প্রকৃতি ভিন্ন। আজ আমেরিকাতে গণতন্ত্র বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। ইউকেতেও দেখছি যে এক একজন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আর মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছেন। ফ্রান্সে অনেক জটিলতা আছে, জার্মানিতেও অনেক জটিলতা আছে, ইতালিতেও বিপর্যয় আছে। এভাবেই দুনিয়া চালাচ্ছে তারা, কর্র্তৃত্ব করছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ সবকিছুই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃত্বে চলছে। কর্র্তৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমাদের দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে হলে- গণতন্ত্র কী এবং কী নিয়ে, গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক পটভূমি কী, আমাদের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য কী এবং কী করলে কী ধরনের গণতন্ত্রে আমরা যাব সেটা নির্ণয় করতে হবে। আর শুধু মুখের বক্তৃতা, পত্রিকায় একটু আধটু বিবৃতি দেওয়া এ দিয়ে উন্নতি বা পরিবর্তন কোনোভাবেই হবে না। এই কথাটা কোনো প্রচার মাধ্যম ভালোভাবে তুলে ধরতে রাজি না, একেক পত্রিকা একেকভাবে একটু ভালো কথা বলে। যেমন ইত্তেফাক আগে তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে আমরা এই চাই এবং সেটা কার্যকর করার জন্য তারা অনেকখানি কাজ করেছে। আজাদ পত্রিকা বলল আমরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে চাই, ভারতে বাংলার মুসলমানদের অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, তারা কিন্তু ইসলাম বা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেনি। মুসলমানদের কল্যাণে একটা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তারা কাজ করেছেন এবং সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারটাকে তারা তখন ভালো মনে করতেন ব্রিটিশ শাসনের সময়ে। আজাদ পত্রিকা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এটা প্রচার করেছে। আকরম খাঁর রাজনীতি আমরা সমর্থন করি না এবং আমরা তখন থাকলে তখনো সমর্থন করতাম না। কিন্তু আকরম খাঁ যে কাজের একটা পদ্ধতি, উদ্দেশ্যনিষ্ঠা, উদ্দেশ্য নির্ণয় করে গেছেন এটা শিক্ষণীয়। আকরম খাঁ ছাড়া কি বাংলাদেশে মুসলিম লিগ এরকম জোরদার হতে পারত? এই পত্রিকাটা না থাকলে কি সম্ভব হতো? পত্রিকার যে অবলম্বন তাতে মানুষের আস্থা হয়। তখন শিক্ষিত লোক অনেক কম ছিলেন, যারা পত্রিকা পড়তেন তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এইসব দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে আছে। এখন আমাদের বাইরের চেহারার দিক থেকে অনেক ভালো ভালো পত্রিকা আছে সেগুলো পাণ্ডিত্য দেখাচ্ছে অনেক টাকা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের রাজনীতি, রাষ্ট্র, আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি পুনর্গঠনের জন্য তাদের লেখা কোনো কাজেই লাগে না। সমকাল পত্রিকার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম যে সংখ্যাটা কবে বের হবে। এখন কি সেরকম কোনো পত্রিকা আছে যে আমরা অপেক্ষা করে থাকি যে পত্রিকাটা কবে বের হবে?
গণতন্ত্র সম্পর্কে একটা সদর্থক আগ্রহ মানুষের ছিল, সেই আগ্রহটা ১৯৮০’র দশকের পর এসে নষ্ট হয়ে গেল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বে। তারা যে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছিল, সেটার মধ্যে কি কোনো নীতি, কোনো আদর্শ ছিল? একটাই ব্যাপার ছিল ‘একদফা, একদাবি এরশাদ তুই কবে যাবি’। এরশাদ বিদায় হয়েছে সেইসঙ্গে মিলিটারি শাসনের সম্ভাবনাও আইন-কানুন করে বিদায় করা হয়েছে। এখন আর মিলিটারি রুল আসবে না, এখন আসছে বিদেশিরা। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনের কিছু আগে থেকে নির্বাচনের কিছু পর পর্যন্ত ওই আমেরিকানরা, ব্রিটিশরা, যে ৭টা রাষ্ট্রের কথা বলা হয় তারাই এসে এখানে কাজ করছে। আর মার্কিন নীতি যদি পরিবর্তন না হলো এবং দেশে যদি আগের মতোই আইন-কানুন থাকত তাহলে মিলিটারি রুল আবার আসত।
আমার দৃষ্টিতে মিলিটারি শাসকদেরও একটা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, জনগণের কল্যাণে কিছু চিন্তা ছিল। কিন্তু রাজনীতিবিদদের মধ্যে সেই জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় চেতনারও অবশিষ্ট নেই। আওয়ামী লীগের মধ্যে নেই। বিএনপির নামের মধ্যে জাতীয়তাবাদ আছে, কিন্তু জিয়া মারা যাওয়ার পরে দলটির কাজে কোনোরকমের জাতীয়তাবাদী চেতনা নেই। আর বামপন্থি দলগুলোর নেতৃত্ব সেইভাবে জনগণের ভেতরে যায়নি, তাদের সমস্ত রাজনীতি ছিল কেবল ছাত্রদের মধ্যে। গঠনমূলক যে কথা দিয়ে শেষ করতে চাই, তা হলো যারা আসলেই রাজনীতি করছেন বা করতে চান, তাদের রাজনীতি কী এবং কী নয়, গণতন্ত্র কী এবং কী নয় এসব কথা নিয়ে সামনে আসতে হবে।
যাদের রাজনীতিতে সততা আছে তাদের পুস্তক-পুস্তিকা লেখা দরকার। লিফলেট, বুকলেট এসব দিয়েই তো আমাদের রাজনীতি চলত। এখন সবকিছুই অনলাইনে নানাভাবে করা হয়। অনলাইনে করা আর ছাপা বই বা লিফলেট-বুকলেটের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে। বইতে দেখে মানুষ সমালোচনা, আলোচনা করে বুঝবার চেষ্টা করতে পারে, তর্কবিতর্ক করতে পারে। কিন্তু অনলাইনে যে তর্ক হয় এগুলো তাৎক্ষণিকতায় সীমাবদ্ধ। এখানে দীর্ঘ ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। একদিকে চিন্তা ও চর্চায় ঘাটতি, অন্যদিকে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ফেল করছে, প্রতিশ্রুতির ধারেকাছেও তারা যাচ্ছে না। রাজনীতি হয়ে গিয়েছে ক্ষমতায় গিয়ে খুব দ্রুত টাকা-পয়সা, সম্পত্তি করে ফেলার সুযোগ এবং সেটাই করছে। ফলে এই রাজনীতির প্রতি, এই গণতন্ত্রের প্রতি, এই নেতৃত্বের প্রতি দেশের বিপুলসংখক মানুষের কোনো আগ্রহ থাকার কথা নয়। এই বাস্তবতার মধ্যে জনসাধারণের মন রাজনীতি থেকে, নির্বাচন থেকে, গণতন্ত্র থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
লেখক : গবেষক, সমাজ বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ।
অনুলিখন : মোজাম্মেল হক হৃদয়
