অভিযান অব্যাহত থাকবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সব সময় অব্যাহত থাকবে।’ তিনি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণ এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা বিধানে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, আর্থসামাজিক উন্নতি করা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করা এটাই আমাদের কাজ। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের হাত থেকে আমরা দেশকে রক্ষা করতে চাই। কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখেই আমাদের আনসার বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন এবং আগামীতেও করে যাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নতসমৃদ্ধ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণ করব। সেই সঙ্গে ডেটাপ্ল্যান্ট ২ হাজার ১০০ তৈরি করে দিয়েছি। জলবায়ু অধিকার থেকে এই বদ্বীপ যাতে রক্ষা পায় প্রতি অঞ্চল অর্থাৎ গ্রামপর্যায়ে মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকে, উন্নত জীবন পায় এবং প্রত্যেকে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আমাদের তরুণসমাজ তারাই হবে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক স্মার্ট সৈনিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। যেটা আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আর সেটা আমরা আজকে করতে পেরেছি। যেকোনো অবস্থার মোকাবিলা করার মতো আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নিরাপদ করতে চাই। আমাদের গ্রামগুলোও স্মার্ট গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠবে। সেখানে কোনো মানুষ দারিদ্র্য থাকবে না, কোনো মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমি ইতিমধ্যেই ভূমি ও গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি। আমরা সেভাবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনযাপন উদযাপন এবং সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে আনসার বাহিনীকে আহ্বান করা হয় এবং তারা দায়িত্ব পালন করে। এখন বিভিন্ন দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যখন সেই ২০১৩, ২০১৪ ও ২০২৩ সালেও অগ্নিসংন্ত্রাস, রেলে আগুন, রেললাইন কেটে ফেলে দেওয়া, মানুষকে হত্যা করাসহ বিএনপি-জামায়াত জোট যে ধ্বংসাত্মক কাজ করেছিল। সেখান থেকেও এই বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬১ লাখ সদস্যের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন, একটি বিশেষায়িত আনসার গ্রাম ব্যাটালিয়ন, ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এখানে ১৬টি ব্যাটালিয়ন সদস্য পার্বতী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা উত্তরণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কত কষ্টে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন অথবা শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের কথাও স্মরণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ১৯৯৬ সাল থেকে সরকারে এসেছি, তখন থেকে আনসার বাহিনীর উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে এই বাহিনী শুধু দেশে নয়, বিদেশে সব জায়গায় সুনাম অর্জন করে যাচ্ছে। এই বাহিনী গ্রামপর্যায়েও কাজ করে থাকে। আমরা গ্রাম উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার গ্রাম আমার শহর, আমার বাড়ি আমার খামারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রতিটি ক্ষেত্রে আনসার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তা ছাড়া দুর্যোগ ও বিপাকে আনসার বাহিনী নেমে আসে এবং সহযোগিতা করে। কখনো ঝড়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ যেকোনো দুর্যোগপ্রবণ ঘটনা ঘটলে এই বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যায়।’

আনসার বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা পুরাতন আইন পরিবর্তন করে নতুন আইন করেছি। আনসার ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৩ ইতিমধ্যে আমরা পাস করে দিয়েছি। এতে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের মতো প্রথম দিন থেকেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। এর আগে আনসারদের চাকরি স্থায়ী হতো না। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমভাবে এই স্থায়ী হওয়ার কাজ শুরু করি। এখন নতুন আইনে সেই সুবিধা করে দিয়েছি। উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার, ইউনিয়ন প্লাটো কমান্ডার, ইউনিয়ন দলনেতা, ইউনিয়ন দলনেত্রীদের আইডি কার্ড প্রদান এবং বার্ষিক সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া আনসার সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধি ও রেশমসামগ্রী উপকরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারী বিজিবি সদস্যদের মতো অত্যন্ত আধুনিক ডিজাইনের নতুন শাড়িও আমি প্রবর্তন করে দিয়েছি।’

তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের বলব, আপনাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন। সবাইকে কঠোরভাবে পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো অশুভ তৎপরতা মোকাবিলা করতে হবে। সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আপনারা রুখে দাঁড়াবেন। জনগণ এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা, শান্তি পরিবেশ ধরে রাখা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা। কাজেই সেই পরিবেশ ধরে রাখার জন্য সবাইকে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।’

টাঙ্গাইল শাড়িসহ পছন্দের পণ্য কিনলেন প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে সাজানো স্টল ঘুরে ঘুরে টাঙ্গাইল শাড়িসহ পছন্দের নানা পণ্য কিনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফিপুর আনসার একাডেমিতে ওই বাহিনীর জাতীয় সমাবেশের মূল অনুষ্ঠান শেষে তিনি আনসার ও ভিডিপির কুটিরশিল্প পরিদর্শন করেন।

আনসার-ভিডিপি একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, আনসার একাডেমিতে বাহিনীর জাতীয় সমাবেশের মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি স্টলে যান। প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় বিভিন্ন স্টল থেকে তিনি টাঙ্গাইল শাড়ি, মণিপুরি শাড়ি, থ্রি-পিস, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ পছন্দের নানা পণ্য কেনেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম রেঞ্জের স্টল থেকে আচার ও ঝিনুক-শামুকের পণ্য কেনেন। তিনি খুলনা রেঞ্জের স্টল থেকে টু-পিস এবং রাজশাহী রেঞ্জের স্টল থেকে থ্রি-পিস কেনেন। সিলেট রেঞ্জের স্টল থেকে প্রধানমন্ত্রী মণিপুরি শাড়ি কিনেছেন। তিনি রংপুর রেঞ্জের স্টল থেকে তিনটি টেবিল রানার ও একটি শতরঞ্জি কেনেন বলে স্টলের দায়িত্বে থাকা তাহেরা সিদ্দিকা জানিয়েছেন।

কুমিল্লার স্টলের দায়িত্বে থাকা এক আনসার কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের এখান থেকে চাদর, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি কিনেছেন। বরিশালের স্টল থেকে প্রধানমন্ত্রী মুড়ির মোয়া, মাছ ধরার পলো, মাছ রাখার খড়াসহ কিছু পণ্য কেনেন বলে জানান আনসারের মুলাদী উপজেলা কর্মকর্তা সীমা ইয়াসমীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ অঞ্চলের স্টল থেকে কাঁসার বাটি-চামচসহ কিছু পণ্য কিনেছেন। আর ঢাকা রেঞ্জের কুটিরশিল্প প্রদর্শনী থেকে তিনি টাঙ্গাইলের শাড়ি ও মোড়া কিনেছেন।

আনসার কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সাজানো স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। কেনাকাটাও করেন। এ সময় আমাদের সঙ্গে কুশলবিনিময়ও করেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত