অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদীন দীঘির বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। দীঘির মতো এমন অনেকেই বিকাশের এমন প্রতারণার শিকার হন। যারা এই প্রতারণার শিকার হন তারা কী নিজেদের টাকা উদ্ধার করতে পারবেন? এমন প্রশ্ন নেটিজেনদের।
দীঘির টাকা উদ্ধারের পর থেকে অনেক ভুক্তভোগী দেশ রূপান্তরে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছেন, তারা এরকম বিপাকে পড়লে কিভাবে উদ্ধার পাবেন?
বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হন অভিনেত্রী দীঘি। সেখান থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।
সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে যান তিনি। দীঘি বলেন, গত পরশু ঘটেছে এটি। আমি একটি কাজের জন্য বাইরে বের হয়েছিলাম। বাসায় ড্রাইভার না থাকায় সিএনজি অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলাম। পথে আমার কাছে ফোন আসে। তখন আমাকে নানাভাবে ম্যানুপুলেট করে বোঝানো হয়, আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। আমার অ্যাকাউন্টে যেহেতু টাকা রয়েছে, তাই আমি চাইনি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হোক।
দীঘি বলেন, আমি সিএনজি অটোরিকশায় থাকায় সেভাবে কিছু বুঝতেও পারছিলাম না। তাই অ্যাকাউন্ট যাতে বন্ধ না হয়। তাদের (প্রতারক) আমার পরিচয় দিই। তখন তারা সরি বলে জানায়, অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে আমার হেল্প লাগবে তাদের। এই সময়ের মধ্যে তারা আমার ফোনে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠায়। আমিও সেটি দিয়ে দেই তাদের। আমি শুধু মনে রেখেছিলাম যে আমার পিন কোড না দিলেই হয়।
অভিনেত্রী বলেন, কিছুক্ষণ পর আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তার পর হঠাৎ অ্যাকাউন্ট চেক করি। দেখি, আমার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। অ্যাকাউন্টে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিল। এর পর সবার পরামর্শে আমি শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করি।
তিনি জানান, শুরু থেকে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ ভাইয়ার কথা মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, তিনি হয়তো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
দীঘি বলেন, ডিবিপ্রধান আমাকে পর দিন দেখা হলে বলেন, আমার আগের রাতে পাঠানো স্ক্রিনশট দেখেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা। আর পর দিন রাতে আমাকে জানান, আমার টাকা রিটার্ন করতে পেরেছেন। আমাকে টাকাটা হ্যান্ডওভার করতে চান। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা বুঝে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বাবা অভিনেতা সুব্রত বড়ুয়া এবং মামা ভিক্টর।
এ ঘটনায় দীঘি শেরে-বাংলা নগর থানা ও ডিবিতে অভিযোগ করেন। মামলার প্রেক্ষিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় হাতিয়ে নেওয়া টাকা।
এ বিষয়ে হারুন বলেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যরা ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করা বা ব্যক্তির অজান্তে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে। সিমগুলো দিয়ে বিকাশ/নগদ কাস্টমার কেয়ারের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট ব্যক্তিকে কল করে তার বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর বিভিন্ন কথা বলার পর টার্গেট ব্যক্তির বিকাশ নম্বরে লগইন করার জন্য তার নম্বরে ওটিপি পাঠিয়ে দেয় এবং টার্গেটকে তার মোবাইলে আসা ওটিপি বলার জন্য অনুরোধ করে। নায়িকা দীঘি সরল বিশ্বাসে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট সচল করা বা অন্য কোনো আশায় মোবাইলে আসা ওটিপি বলে দেয়।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এরপর প্রতারক ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে লগইন করে এবং অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা তুলে নেয়। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই টাকা নগদ উত্তোলন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে দেশের অসংখ্য সাধারণ জনগণ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
কিন্তু এখন জন সাধারণ এমন বিপদে পড়লে কী করবে, তারাও কি দীঘির মতো ডিবির নিকট যাবে? এমন অজস্র প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে।
দীঘির টাকা যেভাবে উদ্ধার করা হয়েছে
জনি সিনসের মুখে হাসি ফোটালেন রণবীর সিং!