ক্লিনিক্যালি ডেথ বা ব্রেইন ডেথ মো. মাসুম আলমের কিডনি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ বছর বয়সী তাহমিনা ইয়াসমিন পপি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ছুটি দেওয়া হয়। এটি ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা ব্রেইন ডেথ মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন।
এ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে পপির হাতে ছাড়পত্র তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাতীয় ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের একটি আন্দোলন হওয়া উচিত। এটি করা গেলে অনেক মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকে সহজেই বাঁচানো যাবে।
উপাচার্য ক্যাডাভেরিক কিডনি দাতা মো. মাসুম আলম এবং তার স্ত্রী তানিয়া আক্তারসহ পরিবারের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাদের ত্যাগের ফলে এই তাহমিনা ইয়াসমিন পপি নতুন করে জীবন পেলেন। ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের সময় তাহমিনা ইয়াসমিন পপির সিরাম ক্রিয়েটিনিন ছিল ৯। এখন ০.৯-এ নেমে এসেছে। তার মানে এই রোগী পুরোপুরি সুস্থ।
বিএসএমএমইউয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ঢাকার কামরাঙ্গীচরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী মো. মাসুম আলমকে গত ২৫ জানুয়ারি ‘ব্রেইন ডেথ’ ঘোষণা করা হলে অভিভাবকরা তার অঙ্গদানের সম্মতি দেন। সেদিনই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে চিকিৎসক মো. মাসুমের একটি কিডনি পপির দেহে প্রতিস্থাপন করেন। আরেকটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ৪৪ বছর বয়সী জাকির হোসেন নামের আরেকজনের শরীরে। তবে কিডনি প্রতিস্থাপনের ১০ দিনের মাথায় জাকির হোসেন মারা যান।
এর আগে দেশে প্রথমবারের মতো অঙ্গদান করেন সারাহ ইসলাম নামে ২০ বছরের এক তরুণী। তাকে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ‘ব্রেইন ডেথ’ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সারাহর শরীর থেকে কিডনি নিয়ে তা দুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। কিডনি দাতা দুজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তখন সারাহর চোখের কর্নিয়াও দেওয়া হয় অপর দুজনকে ও কর্নিয়া গ্রহীতারা ভালো আছেন।
