হাসপাতালের লিফট বন্ধ, কোলে তুলে সিঁড়ি পার রোগীদের

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫২ পিএম

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের দুটি লিফট ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালটি ৮ তলা। ফলে সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। জেলার একমাত্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫’শ রোগী সেবা নিতে আসেন। আর হাসপাতলে ভর্তি থাকে প্রায় ৩শ’র অধিক রোগী। 

চিকিৎসা গ্রহণে রোগী ও তাদের স্বজনদের দিনে বেশ কয়েকবার ৮ তলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় ওঠানামা করতে হয়। কিন্তু ৯ তলায় আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে লিফট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদের। 

স্ট্রেচার ধরাধরি করে সিঁড়ি পার

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রসূতি নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অক্ষম রোগীদের। লিফট বন্ধ থাকায় অসুস্থ রোগীরা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করেই লিফট বন্ধ করে চলছে নির্মাণাধীন কাজ। শত শত রোগীর এমন কষ্ট আর দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। তাই দ্রুত এমন ভোগান্তি নিস্তারের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। 

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, আমার সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে গেছে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাসপাতালের ৬ তলায় এসেছি ডাক্তার দেখাতে। আর ৬ তলায় উঠে এসে আমার হার্ট বিট বেড়ে গেছে। এখন আবার ৪ তলায় নেমে ড্রেসিং করাতে হবে। তাহলে দেখেন কত কষ্ট করে আমাদের চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। তাই আমি হাসপাতালের বন্ধ লিফট দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি।

স্বজনের হাত ধরে কষ্ট চেপে সিঁড়ি নামছেন

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামের বিলকিস বেগম জানান, আমার গায়ে, হাতে, মাজাই ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এসে দেখি লিফট বন্ধ। তাই কষ্ট করে পাঁয়ে হেটে ৫ তলায় উঠেছি শুধু ডাক্তার দেখাব তাই। তবে এতো কষ্ট করে ডাক্তার দেখাতে এসে আমরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। লিফট চালু থাকলে আমাদের এতো কষ্ট করে উপরে ওঠা লাগতোনা। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিফটি চালুর দাবি জানায় আমি। তাহলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের কষ্ট কম হবে।

শহরের সাদিমুল ইসলাম বলেন, আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে সদরে এসেছি। এখানে এসে দেখি লিফট বন্ধ আছে। এই রোগী নিয়ে কীভাবে উপরে ওঠবো এবং কীভাবে ডাক্তার দেখাবো। আমি জরুরিভাবে হাসপাতালের লিফট চালুর দাবী করছি।

সদর উপজেলার বিষয়খালী এলাকার ছমির উদ্দীন বলেন, লিফট বন্ধ থাকার কারণে কয়েক দিন আগে সিড়িঁর ওপরে দুইজনের ডেলিভারি হয়ে পড়ে। দ্রুত লিফটি চালু না করা হলে এমন সমস্যা অহরহ ঘটবে।

স্ট্রেচারে ভর করে কষ্টে সিঁড়ি পার

আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় লিফট বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ভোগান্তির কথা স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দুর্ভোগ হলেও কিছু করার নেই। তবে দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রোগী ও স্বজনদের 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দ রেজাউল ইসলাম রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের লিফটের বিপরীতে সিঁড়ির বিকল্প কিছুই নেই। তাই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। ৮ তলা ভবনের উপরে ৯ তলার কাজ চলমান রয়েছে। ফলে গত ১০ দিন ধরে লিফট বন্ধ রয়েছে। আরও এক মাস বন্ধ থাকবে।

ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, জেলার একমাত্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ৯ তলা ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। তাই আমরা দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িক ভাবে লিফট বন্ধ রেখেছি।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত