‘তুই ছাত্রদল করিস’ বলেই বেধড়ক পেটাল ছাত্রলীগ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় (এম এম কলেজ) শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ছাত্রদল কর্মী কানোয়ার হোসেন (২৪) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ছাত্রদল কর্মী কানোয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পিকনিক যাওয়ার কথা। আমি ও বন্ধুরা সেই পিকনিকের টি-শার্ট আনতে কলেজে যাই। ক্যাম্পাসে পৌঁছলে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের কর্মী রবিউল ইসলাম ও এনামুল ইসলাম আমাকে ডাকে। এরপর ক্যাম্পাস ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে থাকা আমার একটি ছবি দেখিয়ে ওরা বলেন, ‘তুই ছাত্রদল করিস’- এই বলে কলেজের ছাত্র কমন রুমে নিয়ে যায়। সেখানে দরজা বন্ধ করে ৮-১০ জন বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে কমন রুমের বাথরুমে নিয়ে সাত-আটজন মিলে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর স্যাররা এলে দক্ষিণ গেটে নিয়ে গিয়ে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় মারধর করে। মারপিটের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলে ‘তুই যদি ছাত্রদলের প্রোগ্রামে যাস, তোরে মেরে ফেলব। গুলি করে মারব।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীর বন্ধুরা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কানোয়ারের ওপর বেধড়ক মারপিট দেখে আমরা কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাত পা জড়িয়ে ধরি। তাদের বললাম ওরে মাফ করে দেন। তারপরও তারা মার থামায়নি। কয়েকটা স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেছে মারতে মারতে।

আহত ছাত্রদল কর্মীর খালা সালমা খাতুন বলেন, ‘গ্রাম থেকে শহরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছি ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। কানোয়ার সংক্রিয় রাজনীতি করে না। ক্যাম্পাসে যদি ছাত্রদের নিরাপত্তা না থাকে; তাহলে কিভাবে হবে। এইভাবে মানুষ মানুষকে পেটাতে পারে! এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কর্মীকে চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে আসেন কলেজ ও জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বলেন, ‘এই দায় কলেজ প্রশাসনকে নিতে হবে। এ ঘটনায় তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কানোয়ার ক্যাম্পাসে এলে ছাত্রদল করে কি না জিজ্ঞাসা করলে সে হ্যাঁ বলে, তখন আমি তাকে একটি চড় মেরে চলে যাই। এরপর কারা কিভাবে মেরেছ, জানি না।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন কবির বলেন, এমএম কলেজে বর্তমানে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। ছাত্রদলের কোনো কর্মীকে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী মারধর করেনি। তাদের অভিযোগ মিথ্যা।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্রা মল্লিক জানান, ‘আহত ওই ছাত্রদল কর্মীর শরীরে এলোপাতাড়ি মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। মাথায়, কাটা দাগ রয়েছে। সারা শরীরে কালসিটে দাগ পড়েছে। তবে সে এখন শঙ্কামুক্ত।

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। কমনরুমে শিক্ষার্থীদের জটলার খবর শুনে কয়েকজন স্যারকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু স্যারেরা তেমন কোনো ঘটনা দেখতে পারেননি। তারপরও যদি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত