নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মন্দী গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয় শিক্ষার্থী। পরে তারা নরসিংদী ডিজিটাল গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মাথাপিছু ১৫ হাজার টাকায় তার প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বসার চুক্তি করে। কিন্তু তাদের প্রবেশপত্র না আসায় সেই অবধি আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। পরে অবশ্য তারা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে।
জানা গেছে ওই ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে তৈয়বা আক্তার নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং চাঁদনী আক্তার, অর্পিতা সূত্রধর, জান্নাতুল ফেরদৌস, মেঘলা আক্তার এবং সুমাইয়া আক্তার জয়া ব্রাহ্মন্দী গালস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
ওইসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, তার নিজ নিজ স্কুল থেকে টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পরে তারা নরসিংদী ডিজিটাল গালর্স হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমিনুল ইসলাম তাদের সঙ্গে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। টাকা নিয়ে আমিনুল ইসলাম তাদের সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির থাকতে বলেন। আমিনুল ইসলামের কথামতো তারা রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের উপকেন্দ্র বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে হাজির হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও আমিনুল ইসলাম পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হননি এবং তাদের কোনো প্রবেশপত্রও দিতে পারেনি।
গতকাল ওই ঘটনার পর নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকার মালাকার মোড়ের নরসিংদী ডিজিটাল গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্কুলের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া গিয়েছে। আর জেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে স্কুলটির কোনো নিবন্ধন নেই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেই প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম বলেন, ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় না বসিয়ে ওদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আমরা অতিদ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রতারক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন নিয়ম এবং নীতিমালার বাহিরে না যায়। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাহলে তারা যেন অপেক্ষা করেন। ভুল করেও যেন এরকম প্রতারণার ফাঁদে পা না দেন।
