পাবনা সদর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন নিয়ন্ত্রিত একটি সিন্ডিকেটকে কাজ দিতে নানা কৌশলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক ঠিকাদারদের একটি বড় অংশের। বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি টেন্ডার বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি সদর উপজেলায় এডিপি প্রকল্পভুক্ত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পাঁচটি প্যাকেজে বিভক্ত করে ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করে সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিস। ছোট প্যাকেজে বিভক্ত করে এলটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বানের সুযোগ থাকলেও একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে তা ১০ শতাংশ লেসে করা হয়েছে। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ওপেন পদ্ধতি হলেও কোনো ঠিকাদারকে টেন্ডার সাবমিটের জন্য কোনো দর প্রদান করা হচ্ছে না। টেন্ডারের সুনির্দিষ্ট দর শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান জানেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন স্বয়ং ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার স্থানীয় সরকারের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ করছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন কাজ অসমাপ্ত থাকলেও বিভিন্ন ঠিকাদারকে সমুদয় বিল ও জামানতের অর্থ সময়ের আগেই প্রদান করা হয়েছে। এবারও ওই চক্রটিকে কাজ দিতে কৌশলে টেন্ডার আহ্বান করে লুটপাটের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন ঠিকাদার বলেন, ‘অতীতে এডিপি প্রকল্পের এই ধরনের কাজগুলো লটারি (এলটিএম) পদ্ধতিতে ছোট ছোট প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হতো। এ বছর চেয়ারম্যানের সিন্ডিকেটকে কাজ দিতে সুকৌশলে ১০ শতাংশ লেসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যদি কাজের রেট ওপেন করে দেওয়া না হয়, তবে কোনোভাবেই এ কাজে নিরপেক্ষতা থাকবে না।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন নিজেই ঠিকাদার। তার অনুসারী নাইস কনস্ট্রাকশনের মালিক হাজি ফারুক, তার ভাই মোক্তার হোসেনসহ কয়েকজন ঠিকাদার স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজগুলো সুকৌশলে নিয়ে নেয়। তারা গত কয়েক অর্থবছরে বুদেরহাট সড়ক, ছাতিয়ানী সড়ক, সরদারপাড়া সড়কসহ যে কাজগুলো করেছে সবই নিম্নমানের। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বারবার নষ্ট হয়েছে। এরপরও স্থানীয় সরকার বিভাগ তাদের জামানত ও বিল সমুদয় প্রদান করেছে। এবারও তারা পরস্পর যোগসাজশে সরকারের অর্থ লুটের পাঁয়তারা করছে।’
এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজস্ব তহবিলের বড় কাজ ১০ শতাংশ লেসেই হয়। পিপিআর প্রকল্পের কাজে রেট ওপেন করার সুযোগ নেই।’
উপজেলা চেয়ারম্যানকে কাজ দিতে নিয়মের মধ্যেই কৌশল সাজানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, ‘সরকারি প্রকিউরমেন্ট নীতিমালা মেনেই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ওপেন পদ্ধতিতে যে কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারও সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘রাজস্ব তহবিলের কাজ লটারি, এটিএম, ওটিএম যেকোনোভাবেই করানো যায়। ঠিকাদারদের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
