চবি ছাত্রলীগের দিবারাত্রি সংঘর্ষে আহত ২৫

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৪ এএম

দিবারাত্রি সংঘর্ষ জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের তিন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। বিবাদে জড়ানো গ্রুপ তিনটি হলো সিএফসি, সিক্সটি নাইন এবং বিজয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিনে ও রাতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, পূর্ব ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার দিনে সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন এবং বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিজয় গ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হল মোড়ে এবং সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা শাহ জালাল হলের সামনে অবস্থান নেয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ১৫ জন। পরে পুলিশের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে।

দিনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতে সিএফসি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় সিএফসি গ্রুপের ২০২১-২২ সেশনের কর্মী মোহাম্মদ ফাহিমকে স্টেশনে কুপিয়ে জখম করে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরে রাকিব হোসেন নামে আরেক কর্মীকে আমানত হলের গেইটের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএফসি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে রাতে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। 

এসময় সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে এবং সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান নেয়। উভয় গ্রুপের কর্মীদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা: আবু তৈয়ব বলেন, যারা আহত হয়েছে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর আঘাতের পাওয়ার কারণে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

দুপুরের সংঘর্ষের বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বিজয় গ্রুপের নেতা আবু বকর চৌধুরী বলেন, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এসে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের সাথে ঝামেলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা সাদাফ খান বলেন, সিক্সটি নাইনের অনুসারীরা আমাদের এক ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। তারা নেতৃত্বশূন্য হওয়ায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘর্ষ লাগিয়েছে।
 
জানতে চাইলে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা সাঈদুল ইসলাম সাঈদ বলেন, সিক্সটি নাইনের জুনিয়ররা আমাদের ২০১৮-১৯ সেশনের একজনের সাথে বেয়াদবি করার জেরে এ ঘটনা শুরু হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হলের সাথে আমাদের ঝামেলা শেষ না হতেই এ ঘটনা ঘটেছে।

ছাত্রলীগ কর্মীদের সাংবাদিক হেনস্তা:

পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। কেড়ে নেওয়া হয় দুজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন। দুপুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন ক্যাম্পাস সাংবাদিক রেফায়েত উল্যাহ রূপক। মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণকালে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর রাতের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীরা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহ রিয়াজকে হেনস্তা করে। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোনও। এসময় ধারালো অস্ত্র হাতে একাধিকবার সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা।

এবিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহ রিয়াজ বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার দিকে তারা তেড়ে আসে। 

সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি:

দিবারাত্রি ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দুটি সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।  

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদার বলেন, শুরু থেকেই আমরা ঘটনাস্থলেই ছিলাম। তবে অস্থির পরিস্থিতির কারণে প্রথমে তাদের শান্ত করতে পারিনি। এখন পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত