ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে আনুমানিক রাত ৪টা পর্যন্ত দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। তার জের ধরে শুক্রবারও মধুর ক্যান্টিনে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন- পলাশ রায় সৌরব, অপূর্ব চক্রবর্তী, পল্লব মন্ডল, অর্পন কুমার বাপ্পি, বিপ্লব পাল, বর্ষন রয়, কার্তিক কুমার। এরা প্রত্যেকেই সৈকতের অনুসারী বলে জানা গেছে। এদিকে ইনানের অনুসারীদের মধ্যে আহত হয়েছেন অভিষেক ভাদুড়ি, জয় দাসসহ অপুর্ব, ধ্রুব, চিন্ময়, রিদ্ধি, অভি ও প্রিতম।
জানা যায়, স্বরসতী পূজা উপলক্ষে ছাত্রলীগের আয়োজিত কনসার্ট শেষে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত চলে যাওয়ার সময় হল কমিটির পদপ্রার্থী ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের অনুসারী গণেশ ঘোষের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে গণেশ সৈকতের কাছে মাফ চাইলে ঘটনা শেষ হয়। তবে সৈকত চলে যাবার পরেই হল মাঠে ইনান ও সৈকতের অনুসারীদের মাঝে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। যা রাত ৪টা পর্যন্ত চলে।
এ ঘটনায় সৈকতের অনুসারী ও কমিটির পদপ্রার্থী অপূর্ব চক্রবর্তী ও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী শ্রীরুপ কুন্ডুর মাথা ফেটে যায় ও আরও ১৩ জন আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা ও ছাত্রলীগ জগন্নাথ হল সভাপতি অনতু বর্মন আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহতরা প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়ে হলে ফিরেন। কিন্তু অপূর্ব চক্রবর্তীর মাথা ফেটে যাওয়ায় মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জগন্নাথ হলের কনসার্টে মমতাজের গান শেষে সৈকত চলে যাওয়ার পর জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। রাত প্রায় ২টার দিকে সাদ্দাম ও ইনানের অনুসারীরা এক হয়ে সৈকতের অনুসারীদের উপর হামলা করে। হামলার সময় উভয় গ্রুপের হাতে হকিস্টিক, জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এ ঘটনার প্রতিকার চাইতে শুক্রবার বিকেলে তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারীরা শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের কাছে আসলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা ফের মারামারিতে রূপ নেয়। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এসময় শেখ ইনান সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
সৈকতের অনুসারী ও জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা পলাশ রায় সৌরভ বলেন, গতকাল রাতে জগন্নাথ হলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জুনিয়রদের মধ্যে সমস্যা হয়। পরবর্তীতে তা সিনিয়রদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন আমরা সৈকত ভাইকে বিদায় দিয়ে ফিরছিলাম, তখন ইনান ভাইয়ের সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এই হামলায় আমাদের এক ক্যান্ডিডেটের মাথা ফেটে যায় এবং তার মাথায় ৮টি সেলাই লাগে। তিনি বলেন, আমরা ১৫-২০ জন আজ দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে গতকাল রাতের ঘটনা ইনান ভাইকে জানাতে এবং বিচার দিতে গেলে তার সমর্থকরা ইনান ভাইয়ের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় আমাদের দুজন জুনিয়রের হাত কেটে যায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, গতরাতে জগন্নাথ হলে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের সঙ্গে আমার অনুসারীদের একটা ঝামেলা হয়। এ ঘটনার জন্য মধুর ক্যান্টিনে আজ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে আমার কর্মীরা বিচার দিতে গেলে তার সমর্থকরা আবারও পলাশ এবং অপূর্বসহ কয়েকজনকে মেরেছে। গত রাতেও ওদের ওপরে হামলা করেছিল। এ বিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, গতকাল জগন্নাথ হলে একটা ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। সেটা নিয়েই আজকে মধুর ক্যান্টিনে ছোট-খাটো ঝামেলা হয়েছে। সেখানে আমার ও তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী ও ক্যান্ডিডেটরা ছিলো। ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখবো এবং কে অপরাধী তা শনাক্ত করবো। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া।
সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, গতকাল রাতে আমাদের হল মাঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি সমস্যা হয়েছিলো। আমি তাদেরকে ডেকে সমস্যার সাময়িক সমাধান করেছি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করবো এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো।
