সিলেটকে উড়িয়ে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল পেল হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ। গত ৭ দিন বিশ্রামে থেকেও সিলেটের ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্সে উন্নতি আসেনি। ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ইনিংস থামে ১৬৫ রানে। ১০ ম্যাচে ৬ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে নিজদের অবস্থান আরও শক্ত করল ফরচুন বরিশাল। অন্যদিকে, ছয়ে থাকা সিলেট এবারের বিপিএলে দেখল সপ্তম পরাজয়। তাতে শেষ হয়ে গেছে প্লে অফে খেলার স্বপ্ন।
১৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুর ১০ ওভারেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সিলেট স্ট্রাইকার্স। কাইল মায়ের্স রীতিমতো ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দিলেন সিলেটের ব্যাটিং লাইনকে। ৪-১-১২-৩, বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই তার এমন চোখ ধাঁধানো বোলিং ফিগার। যা রীতিমতো ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো।
ইনিংসের প্রথম ওভার করতে এসেই কাইল মায়ের্সের বাজিমাত, ডাবল উইকেট মেডেন। সিলেটের আইরিশ ওপেনার হ্যারি টেক্টরকে দ্বিতীয় ডেলিভারিতে করলেন বোল্ড। ওভারের পঞ্চম বলে সৌম্য সরকারের হাতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ হন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকার বা দিকে লাফিয়ে যেভাবে বলটি তালুবন্দি করলেন, টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচের লিস্টে উপরের দিকেই থাকবে। টেক্টর, শান্ত; দুজনেই হয়েছেন ডাক।
বিপর্যয়ের মাঝে থিতু হয়ে যাওয়া সিলেটের আরেক ওপেনার জাকির হাসান ব্যক্তিগত ৫ রানে হয়েছেন রান আউটের শিকার। ৩ উইকেট খুইয়ে স্কোরবোর্ডে ২৯ রান তোলে পাওয়ার প্লে শেষ করে সিলেট স্ট্রাইকার্স। এরপর আবারও মায়ের্সের তোপের মুখ পড়তে হয় তাদের। ১০ রানে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে ফেরাতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন খালেদ আহমেদ। অনেকটা দৌড়ে এসে লাফিয়ে ক্যাচ হাতে নেন খালেদ, দল নিয়ে মাতেন উদযাপনে।
কেশব মহারাজ এদিন প্রথম শিকার বানান লঙ্কান অ্যাঞ্জেলো পেরেরাকে। সামিত প্যাটেলের জায়গায় সেরা একাদশে আসা পেরেরা ১৯ বল খেলেও ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি। ওভারে মাত্র দুই রান খরচ করে যান মহারাজ। মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতে অ্যাকশনে আসেন ইনিংসে ১০ম ওভারে। ৪র্থ ডেলিভারিতে স্টাম্প ভাঙেন রায়ান বার্লের। ১০ বল খেলা বার্ল করেছেন কেবল ৩। ৪০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ব্যাটিং লাইন যেন হয়ে যায় ধ্বংসস্তূপ।
এরপর অবশ্য বেনি হাওয়েল আর আরিফুল হকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। এই জুটিতে উইকেটের ধাক্কা সামলে বরিশালের রানের চাকায়ও গতি আসে। কিন্তু ম্যাচ জয়ের জন্য যেরকম ব্যাটিং দরকার ছিল তা দেখা যায়নি সিলেটের পুরো ইনিংসের কোনো এক সময়েও।
তবে ব্যাট হাতে আরিফুল ইসলাম আর বেনি হাওয়েল দশ ওভারের পর চালিয়েছেন তাণ্ডব। ২৮ বলে এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম পঞ্চাশের দেখা পান আরিফুল। ফিফটির পর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি, ব্যক্তিগত ৫৭ রানে হয়েছেন ওবেদ ম্যাককয়ের শিকার। ৩১ বলে চার ছক্কা ও পাঁচ চারে এই ক্যামিও ইনিংস খেলে যান আরিফুল হক।
১৯তম ওভারে আরিফুলের উইকেট পেলেও ২১ রান খরচ করে যান ম্যাককয়। এই ওভারে বেনি হাওয়েলও পেয়েছেন ফিফটির দেখা, মাত্র ২৯ বলে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ২৩ রান। সাইফউদ্দিন প্রথম বল ডট দিয়ে পরের বলে শিকার করেন ভয়ংকর হাওয়েলকে।
