ভর্তি পরীক্ষায় বাধা দেওয়ার হুমকি নিপীড়নবিরোধীদের

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:২০ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মাদকমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে টানা আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে ধর্ষণকা-ের পর গঠিত আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ’। আন্দোলনকারীদের এই দাবিগুলো না মানা হলে ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি দেন তারা।

নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের দাবিগুলো হলো, ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল থেকে বের করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করা এবং র‌্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা, নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিশ্চিত করাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করা, নিপীড়কদের সহায়তাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তদন্ত  চলাকালে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে, মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণাপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্ল্যাটফর্মের সদস্যসচিব পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী  মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন ও চলমান আন্দোলনের দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন যদি গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ আরও ব্যাপক ও কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং এই উদ্দেশ্যে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের যেকোনো প্রকার গড়িমসি যদি আমাদের কঠোরতর আন্দোলনে যেতে বাধ্য করে এবং ফলে আসন্ন ২২ ফেব্রুয়ারি  অনুষ্ঠিতব্য  স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়ালচিত্র মুছে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করছেন ছাত্রলীগের দুই নেতা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হক পরে ওই দিন রাতে একই দাবিতে অনশনে যোগ দেন বাংলা বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম।

এদিকে শনিবার দুপুর দেড়টায় অনশনকারী ছাত্রলীগের দুই নেতার সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী এবং সদস্য অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, অধ্যাপক আইরিন আক্তার প্রমুখ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দেয়ালচিত্র আঁকা ছিল। তবে স¤প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণকা-ের পর ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সেখানে বঙ্গবন্ধুর দেয়ালচিত্র মুছে একটি গ্রাফিতি অঙ্কন করেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের একাংশের নেতাকর্মীরা। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্রাফিতিটি মুছে দেওয়া হয়। এখন সেখানে আবারও বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার শামীম আহমেদ ও চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এম ময়েজউদ্দীন। এ ছাড়া কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-২) এ বি এম আজিজুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ব্যঙ্গচিত্রটি মুছে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি সেখানে অঁকা হয়েছে। এটাও তদন্তের একটি প্রক্রিয়া। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত