ভাষার মাসে কুড়িগ্রামে ৬টি লিটল ফ্রি লাইব্রেরি স্থাপন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৬ এএম

ভাষার মাসে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ছয়টি লিটল ফ্রি লাইব্রেরি স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ। এর মধ্যে গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কলেজ মোড় ও বউবাজার এলাকায় দুটি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়।

এ নিয়ে জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলায় ৫০টি লাইব্রেরি স্থাপন করা হলো যেগুলোর বেশিরভাগই চরাঞ্চলের হাটঘাটসহ প্রত্যন্ত এলাকায়।

গতকাল দুটি লাইব্রেরি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আনাম আহমেদ, সার্জেন্ট মোস্তাফিজ, খমির উদ্দিন আহমেদ, ওমিকন গ্রুপের আইন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক জুয়েল রানা, শিক্ষক মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।

বউবাজার এলাকার শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ‘আমাদের এলাকা তো একদম প্রত্যন্ত। আশপাশে কোনো লাইব্রেরি নেই। বই পড়ার সুযোগও নেই এখানে। এ লাইব্রেরি হওয়ায় বই পড়ার সুযোগ পেয়েছে এখানকার বাসিন্দারা। পুলিশের এমন উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই।’

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি লিটল ফ্রি লাইব্রেরি একটি অনন্য প্রয়াস। আমরা চাই কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরের সম্মানিত নাগরিকরা অবসরে আষাঢ়ে গল্প না করে বই পড়ে জানুক। লিটল ফ্রি লাইব্রেরিতে প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু, সমাজ জীবন নির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী বই স্থান পেয়েছে। ভবিষ্যতে জেলায় এমন লাইব্রেরি আরও স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

জেলা পুলিশ জানায়, লিটল ফ্রি লাইব্রেরি একদমই ব্যতিক্রম, যা যেকোনো জায়গায় স্থাপন করা যায় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। এই লাইব্রেরি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া সহজ হবে। একটি বাক্সের ভেতরে বইসহ লাইব্রেরিটি কোনো প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসায়ীকে পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে দেয়। ওই ব্যবসায়ী লাইব্রেরিটি দেখভাল করেন। মাঝেমধ্যে পুলিশ সেগুলো মনিটর করে।

গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে এই লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। চলতি মাসেই ছয়টি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫০টি লাইব্রেরি জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আমাকে ছোট একটি লাইব্রেরি বইসহ বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এটি আমার দোকানের সামনেই থাকবে। যে কেউ এখান থেকে বই নিয়ে পড়ে এখানেই রাখবে। যখন দোকান বন্ধ করব তখন লাইব্রেরিটি দোকানের ভেতরে নিয়ে রাখব। আবার সকালে যখন দোকান খুলব, তখন বাইরে নিয়ে রাখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত