জনপ্রিয় গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং পাক্ষিক অন্যদিনের সাহিত্য সম্পাদক নাসরীন জাহান। লেখালেখি শুরু করেছেন আশির দশকের শুরুতে। ‘উড়ুক্কু’ উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি নান্দনিক ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এ পর্যন্ত অজস্র গল্প এবং ৬৫টি উপন্যাস লিখেছেন। কথা বলেছেন তাপস রায়হান
এবারের বইমেলায় আপনার কতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে?
নাসরীন জাহান : এবারের বইমেলায় আমার লেখা সব বই মেলায় চলে এসেছে। এখানে মৌলিক গল্পের বই ১টা। সেটা হচ্ছে, অণুগল্পের বই। নাম হচ্ছে, অন্যতমা অন্য দিকে যায়। বের করেছে অন্যপ্রকাশ। এছাড়া গল্পসমগ্র-১ আর ২ বের করেছে-জলধি। স্বনির্বাচিত বের করেছে, পাঞ্জেরি। নির্বাচিত উপন্যাস বের করেছে, বাংলা একাডেমি। এই ৪টা বই মেলায় এসেছে।
আপনার বই পাঠককে কেন পড়তে বলবেন?
নাসরীন জাহান : আমি কোনোদিন পাঠককে আমার বই পড়তে বলি না। এটা ঠিক, এখন বাস্তবতা অনেক বদলে গেছে। আমরা যখন তরুণ বয়সী ছিলাম, তখন তো পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। একজনের একটা বই পড়ে ভালো লাগলে, আরেকজনকে বলতাম সেটা পড়ার জন্য। একজন ভালো পাঠক আশপাশের আরও ৪-৫ জনকে বলতেন। কোথাও কোথাও বইয়ের রিভিউ লেখা হতো। সেখান থেকে একটা পাঠকশ্রেণি চলে আসত। সেই কালচার তো এখন নেই, হারিয়ে গেছে।
বই পাঠকের হাতে পৌঁছাতে কোনো কৌশল অবলম্বন করেন?
নাসরীন জাহান : না, এই পথ সত্যিই জানি না। এ পর্যন্ত মেলায় গেছি মাত্র ২ বার। আমি জানি না, কীভাবে কৌশল করতে হয়।
আমাদের বই প্রকাশ, প্রচার, আলোচনার প্রবণতা অনেকটা ফেব্রুয়ারি-কেন্দ্রিক। এ বিষয়ে কী বলবেন?
নাসরীন জাহান : এটা আজকের চিত্র না। চলছে দীর্ঘসময় ধরে। ৩০ বছর ধরে এই কথা বলছি। এখানে সব ধরনের মিডিয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা এই অচলাবস্থা কিছুটা হলেও দূর করতে পারে।
কেউ বলে বইয়ের পাঠক কমেছে। আবার কেউ বলে বেড়েছে। আপনার কী মনে হয়?
নাসরীন জাহান : বোধসম্পন্ন, রুচিশীল পাঠকের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক পাঠক তো বুঝেই উঠতে পারেন না, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ? মননশীল পাঠকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
বইমেলার আয়োজন ও পুরস্কার নিয়ে সার্বিকভাবে বাংলা একাডেমির ভূমিকা কেমন?
নাসরীন জাহান : এ বছর বাংলা একাডেমির পুরস্কারের ব্যাপারে সেই অর্থে দ্বিমত করার বিষয়ে তেমন কিছু দেখছি না। তবে অন্যান্য বছর আগেই পুরস্কারের বিষয় বাইরে প্রকাশ হয়ে যায়। একাডেমি এসব ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিলে খুশি হব। সম্মানিত জুরি বোর্ড সত্যিকারভাবে যাকে নির্বাচিত করবেন, তিনিই যেন পুরস্কার পান।
বইমেলাকে কীভাবে আরও লেখক-পাঠক ঘনিষ্ঠ করা যায়?
নাসরীন জাহান : আসলে মেলায় সত্যিকারের পাঠককে আসতে হবে। লেখকদের কেউ না কেউ মেলায় থাকবেনই। এভাবেই পাঠক যখন মেলামুখী হবেন, লেখকও প্রাণপ্রাচুর্যে তাকে আগলে রাখবেন।
