যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর পর গাজায় প্রচন্ড হামলা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২১ এএম

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে আবারও ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভেস্তে গেছে উপত্যকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর পর গাজায় গত মঙ্গলবার রাতে বিমান হামলা চালিয়ে প্রায় ৬৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আবার আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলি দখলদারি নিয়ে শুনানিতেও ইসরায়েলের হয়ে যুক্তি তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সর্বশেষ ভেটোসহ তিনবার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করল যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য, আলজেরিয়ার উত্থাপিত ওই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনাকে ‘বিঘ্নিত’ করবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩টি দেশ। পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ায় ওইসব ভোটের আর মূল্য নেই। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।

জাতিসংঘে চীনের দূত ঝাং জুন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে ‘তীব্র হতাশা ও অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন ভেটো একটি ভুল বার্তা পাঠায় যা গাজার পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দেয়।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, মার্কিন ভেটো নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে আরেকটি কালো পাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, মার্কিন ভেটোর পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালিয়েছে। এতে এক নারী নিহত হয়। আর রাতভর বিমান হামলায় গাজার ৬৭ জন মানুষকে হত্যা করে ইসরায়েল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২৯ হাজার ৩১৩ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে গতকাল ইসরায়েলি দখলদারি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) শুনানিতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি এলাকা থেকে তেল আবিবকে সররার আহ্বান জানানোর জন্য ইসরায়েলের সত্যিকার নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নেওয়া প্রয়োজন।

আদালতে মার্কিন প্রতিনিধি বলেন, ‘দখলকৃত জায়গা থেকে অবিলম্বে এবং বিনা শর্তে ইসরায়েলকে সরে আসার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে বিরত থাকা উচিত আদালতের।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত