৪ অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট অন্যটি তালাবদ্ধ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫০ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে তিন বছর ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা মিলছে না। এতে জরুরি ভিত্তিতে রোগী নিয়ে ঢাকা বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি নিত্যদিনের। চালক সংকটে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো ভবনের পেছনে গেলেই চোখে পড়ে চারটি অ্যাম্বুলেন্স খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এর একটি এরই মধ্যে জং ধরে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। মাটিতে মিশে গেছে প্রায় সবটুকু। আরেকটি প্রায় ধ্বংস হয়ে জং ধরে পড়ে আছে। মরিচা ধরে ও যন্ত্রাংশ চুরির কবলে পড়ে নষ্টের শেষপ্রান্তে এ দুটি অ্যাম্বুলেন্স।

এদিকে একই ভবনের পেছনে হাসপাতালের প্রধান সেন্ট্রাল অক্সিজেন সেন্টারের পাশে আরও দুটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তবে এ দুটি সচল করা সম্ভব হলেও কেউ সচল করছে না। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে যে দুটি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে, সেগুলো সারানো সম্ভব। বিকল আর অকেজো হয়ে পড়ে থাকা চারটি অ্যাম্বুলেন্সের পাশেই একটি নতুন বিল্ডিং ভবনের ভেতরে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে সচল নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি। তবে চালক না থাকায় এটিও নিয়মিত ব্যবহার না করায় বিকল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতালটি ২৫ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর এখন নিয়মিত প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী সেবা নিয়ে থাকেন, যা কখনো কখনো ২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাদের মধ্যে বহু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। তারা সবাই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়তো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে গেছেন।

ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যেখানে খুব অল্প টাকা নেয় সেখানে বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেয় পাঁচ থেকে ছয়গুণ। অনেক সময় রোগীর অবস্থা বেশি বেগতিক দেখে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা আরও বেশি ভাড়া দাবি করে বসেন। তখন রোগীর গুরুতর অবস্থা দেখে সময় নষ্ট না করে দরদাম ছাড়াই তাদের (বেসরকারি চালক) কথামতো ভাড়া মিটিয়ে রোগী ঢাকা নয়তো ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিতে হয়। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সরকারি) পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে আছে আর কর্তৃপক্ষ কোনো গরজ করছে না। রোগীদের কষ্ট আর স্বজনদের ভোগান্তি অর্থক্ষতি তারা গায়ে মাখছে না। তারা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিচ্ছে।

বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক আনসার আলী বলেন, ‘হাসপাতালের সামনেই ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ও প্রাইভেট কার স্ট্যান্ড রয়েছে। রোগী নিয়ে ঢাকায় যেতে ৫ হাজার এবং ময়মনসিংহ যেতে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকি।’

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেক দিন ধরেই নষ্ট। এর মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। যার মধ্যে দুটি একেবারেই ব্যবহার অযোগ্য। একটি সচল অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই সাড়ে তিন বছর ধরে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের এ সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান আহম্মেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে ডিজি অফিসে কথা বলেছি। চালক সংকট সারা দেশেই আছে। এ বছরই বেশ কিছু চালক নিয়োগ দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত