সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে বাঁধ নির্মাণে নামলেন এলাকাবাসী

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৪১ এএম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ। ভাঙন রোধে সরকারিভাবে কোনো কাজ না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। বাধ্য হয়ে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর কাছে সহযোগিতা চান। এলাকাবাসী শ্রম ও অর্থ দিয়ে বাঁধ নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গতকাল শনিবার সকালে ব্যাম্বু বান্ডেলিং পদ্ধতিতে বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক রোকনুজ্জামান শাহীন। এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, অবহেলিত চিলমারী ইউনিয়নের পশ্চিম তীরে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে দুইটি কমিউনিটি ক্লিনিক, সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জুনিয়র হাইস্কুল ও মসজিদ-মাদ্রাসাসহ কয়েক হাজার বসতবাড়ি এবং শত শত একর ফসলি জমি। চিলমারী এবং পার্শ¦বর্তী অষ্টমীরচর ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার পরিবার একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। গত বছরের বন্যায় চিলমারী ইউনিয়নের পশ্চিম তীরের প্রায় ১ হাজার একর আবাদি জমি ও ১২৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলিন হয়ে যায়। বসতভিটা এবং আবাদি জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারগুলো। ভাঙনরোধে বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।

চিলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নূর বক্ত বলেন, ‘আমরা নদী ভাঙনের কারণে একেবারে নিঃস্ব। সরকারিভাবে নদী ভাঙনরোধে কোনো কাজ না হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিজ উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছি। আশা করি এখন নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাব।’

রংপুর কারমাইকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী রোকেয়া ইসলাম বলেন, ‘ব্যাম্বু বান্ডেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাঁধ তেরি করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্পব্যয়ে নদী ভাঙনরোধে সফল হবে।’

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে আমার ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। এখনো চারটি ওয়ার্ড নদীভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে আছে। বাঁধ নির্মাণ হলে আমার ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী অষ্টমীরচর ইউনিয়নের সাত থেকে আট হাজার পরিবারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। আমার জন্মস্থান এটা, আমি চেষ্টা করব চরাঞ্চলের মানুষের সব ধরনের সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত