রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে গত ৭ জানুয়ারি ছেলেকে হারিয়েছেন বাবা শামীম আহমেদ। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আয়ানের মৃত্যুর ৪৭ দিন পার হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো তাকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
সবশেষ গতকাল ডাক্তারের অবহেলায় সন্তানের মৃত্যুর বিচার ও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিবি কার্যালয়ে যান শামীম আহমেদ।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি বাড্ডা থানায় ওই হাসপাতালের পরিচালক ও দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন আয়ানের বাবা। মামলার পর থেকে কখনো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, কখনো গেছেন তদন্ত কমিটির ডাকে স্বাক্ষাৎকার দিতে। তার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তিনি করছেন। সবশেষ গেছেন ডিবি কার্যালয়ে। তবুও এখন পর্যন্ত জড়িতদের গ্রেপ্তার না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গত ৯ তারিখে বাড্ডা থানায় মামলা করেছি, এখন পর্যন্ত আমাদের মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা তেমনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। অথচ আমরা দু’জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। অথচ আমাদের পরে মালিবাগের এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে গত মঙ্গলবার মৃত্যু হয় শিশু আয়ানের। এ ঘটনার পরেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না। এজন্য আমি গতকাল ডিবি অফিসে ৮ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে আমার ওপরে অনেক ধরনের হুমকি আসছে। আমাকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এজন্য শাহবাগ থানায় আমরা সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমরা বাড্ডা থানাতেও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অবহিত করেছি। আমি সব ডাক্তারকে কখনো দোষারোপ করি না। কিছু কিছু ডাক্তার অর্থের লোভে কাসাইয়ের ভূমিকায় কাজ করে। তাদের হাতে মূলত আমার ছেলে আয়ানের মতো অন্য কারও সন্তানের মৃত্যু হচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আয়ানের বাবাকে হুমকির বিষয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আয়ানের বাবা যদি ডিবিতে মামলা তদন্তের আবেদন করেন, আমরা তদন্ত করব। আসলে অনেক প্রতিষ্ঠান বড়। কিন্তু তিনি সাধারণ মানুষ, বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লড়াই করে পারবেন না। তবে আমরা তার পাশে আছি।’
এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চিকিৎসায় অবহেলা হলে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে। কোন চিকিৎসকের গাফিলতির জন্য কোন শিশু মারা গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কোন অবহেলা সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
