অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী এদিন ছিল তার বিচারিক কর্মজীবনের শেষ দিন। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিলে খেটে খাওয়া মানুষ বাঁচার পথ করে নিতে পারে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পালনের জন্য বিচারককে মন এবং মননে স্বাধীন হতে হবে।’ শেষ কর্মদিবসে দুপুর ১২টায় আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিনকে রীতি অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির বিদায়ী সংবর্ধনা দেন।
সংবর্ধনার জবাবে তিনি বলেন, ‘সুশাসন এবং আইনের শাসন সমার্থক। সুশাসন তথা আইনের শাসন নিশ্চিত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একই সঙ্গে এ কথাও অত্যন্ত ঠিক যে, বিচারিক স্বাধীনতা অনেকাংশে নিশ্চিত করে বিচারকের অন্তরের স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পালনের জন্য বিচারকের মন এবং মননে স্বাধীন হতে হবে এবং এ কারণে বিচারককে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক আদালতকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে। প্রান্তিক মানুষ জানবে অন্যায়ের প্রতিকার করার জন্য আইন আছে। আইনপ্রয়োগের জন্য আদালত আছে।’
বিচারপতি বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, ‘এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো আমারই স্বজন। তাদের প্রত্যেকের জীবনে সুখ আসুক, স্বাচ্ছন্দ্য আসুক। দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিলে খেটে খাওয়া মানুষ বাঁচার পথ করে নিতে পারে।’
