সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার কেজিরমোড় এলাকার জনতা ক্লিনিকের সামনে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে কলেজছাত্র বখাটে আজিজুল হক হৃদয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে বখাটেরা ওই মেয়ের বাবা একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধিকে মারধর করে। এ ঘটনায় ওই বাবা মামলা করলে পুলিশ কেজিরমোড় এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গতকাল বুধবার সকালে খামারগ্রাম কলেজের ছাত্রদের নিয়ে এনায়েতপুর থানার সামনের সড়কে টায়ার জ¦ালিয়ে আসামিদের পক্ষে বিক্ষোভ করে।
জেলে পাঠানো আসামিরা হলেন এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণ গ্রামের মৃত ইসমাইল ভূঁইয়ার ছেলে কলেজছাত্র আজিজুল হক হৃদয় (২০), গোপীনাথপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন রোকন (২৫), খোকশাবাড়ী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭) এবং গোপীনাথপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে খামার গ্রাম কলেজের প্রভাষক ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রাশেদ উদ্দিন ভূঁইয়া (৪২)।
এ বিষয়ে ওই বাবা জানান, মেয়ের সঙ্গে বখাটেপনা ও তাকে মারধরের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা থানায় মামলা না করে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে তিনি তার পরিবার নিয়ে প্রাণভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আহমেদ মোস্তফা খান বাচ্চু বলেন, ‘আমরা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে নয়, আমরা এক শিক্ষককে মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছি।’
এ বিষয়ে খামারগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী বলেন, ‘এদিন আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। ফলে মিছিলের বিষয়ে কিছু জানি না। ছত্ররা মিছিলে গিয়ে থাকলে সেটা আমাদের অগোচরে গেছে। এ মিছিলের সঙ্গে কলেজের কোনো সম্পর্ক নেই।’
এনায়েতপুর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
