সরকারি জলমহাল দখল করে সাবেক চেয়ারম্যানের ঘের!

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৩:১৭ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া সুতাচুরা এলাকায় সরকারি বদ্ধ জলমহালের একাংশ বাঁধ দিয়ে দখল করে ব্যক্তিগত মৎস্যঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জলমহালের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। চিঠি দিয়ে দায় সেরে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে নীরব রয়েছে উপজেলা প্রশাসন!

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের প্রায় ২০ একর আয়তনের উজানটিয়া-সুতাচুরা জলমহালটি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তিন বছর পরপর স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতিকে ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করে। গত পাঁচ বছর আগে উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জলমহালটি তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে জলমহালের একাংশে মাটির বাঁধ দিয়ে মৎস্যঘের তৈরি করে। ২০ একর আয়তনের জলমহালের প্রায় ১ একর জায়গা তিনি জবর দখল করে নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ২০ একর আয়তনের জলমহালটি নামমাত্র ৯০ হাজার টাকা মূল্যে তিন বছরের জন্য ইজারা নেন উজানটিয়ার তৎকালীন চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতেই দখলের মাধ্যমে জলমহালের শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারি বদ্ধ জলমহালের একাংশে বাঁধ দিয়ে জবর দখল করে নেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থনীয়রা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের ১৭ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ইউএনও মাহাবুবউল করিম বাঁধ কেটে জলমহালটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। কিন্তু এরপর প্রায় পাঁচ বছর পার হতে চললেও উপজেলা প্রশাসনের সে নির্দেশনা মানেননি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল করিম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জলমহালের শ্রেণি পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত মৎস্যঘের তৈরি করলেও প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খালটি দখলমুক্ত ও আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এক সময় উজানটিয়া-সুতাচুরা জলমহালটি আমি ইজারা নিয়েছিলাম। সে সময় মৎস্য চাষের সুবিধার্থে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। আর সেখানে আমার কিছু খতিয়ানি জায়গা রয়েছে।’ সরকারি জলমহালে নিজের খতিয়ানি জায়গা কীভাবে থাকে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউএনও চাই থোয়াইহালা চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টা যেহেতু এখন জেনেছি, খতিয়ে দেখে সরকারি জলমহাল জবর দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত