খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দীঘলিয়া) দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামালউদ্দিন বাদশার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য। তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ করছেন, যা নিয়ে খোদ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বিব্রত।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী বলেন, দুই গ্রুপের এমন কর্মকান্ডে দলের বদনাম হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত ও উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদকে অবহিত করা হয়েছে।
গতকাল বৃস্পতিবার সকাল ১০টায় রূপসা প্রেস ক্লাবের সামনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রূপসার নৈহাটী গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে সাংসদের অনুসারীরা রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন বাদশার বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কামালউদ্দিন বাদশার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ফ ম আবদুস সালাম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামালউদ্দিন বাদশা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকার কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকা-ে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে প্রত্যাখ্যানেরও দাবি উঠেছে।
গত সোমবার একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করে সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান এবং হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন মো. কামাল উদ্দিন বাদশা। তিনি সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পরপরই এমপি সালাম মুর্শেদীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে খুলনা-৪ আসনের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার, নির্যাতন, রক্তাক্ত জখম এবং তাদের সম্পদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট ও দখল করা হয়।
কামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, এমপি সালাম মুর্শেদী গত ১৫ ফেব্রুয়রি খুলনায় আসেন এবং খুলনা-৪ আসনের রূপসা, তেরখাদা এবং দীঘলিয়া উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার অনুসারীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অশ্লীল ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষের নেতাদের দলীয় পদন্ডপদবি খেয়ে ফেলার হুমকি ও তাদের সালাম দিতেও জনগণকে নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ক্ষমতা ও দায়িত্বের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘কামালউদ্দিন বাদশার অভিযোগ সব কাল্পনিক। তিনি ২০১৮ সাল থেকে রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও এ পর্যন্ত আমাকেও না, জেলা পরিষদেও না, ইউনিয়ন পরিষদেও না এবং এবারও নৌকায় ভোট দেননি। যে মানুষটি সবসময় নৌকার বিরোধিতা করেন, তিনি আবার নৌকার মাঝি হতে চান এটা সংগঠনবিরোধী কাজ। আমরা চাই সংগঠন শক্তিশালী হোক। সংগঠনে যারাই থাকবেন, তারাই দায়িত্ব পালন করবেন।’
