দেশি শজনে ডাঁটা উঠতে এখনো একমাসের বেশি সময় বাকি। যার কারণে দেশের বাজারে আমদানিকৃত শজনে ডাঁটার ভালো চাহিদার পাশাপাশি দাম ভালো থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সবজি শজনে ডাঁটা। আমদানিকৃত এসব শজনে ডাঁটা সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। নতুন এই পণ্য আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরের দৈনন্দিন আয় বেড়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
গত ২৭ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শজনে ডাঁটা (ড্রাম স্টিক) আমদানি শুরু হয়। হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স খান ট্রেডার্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে শজনে ডাঁটা আমদানি করছে। ভারতের আরএসটি এন্টারপ্রাইজ নামের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শজনে ডাঁটাগুলো রপ্তানি করছে। বন্দর দিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৭টি ট্রাকে ৩৪৮ টন শজনে ডাঁটা আমদানি হয়েছে। বন্দরের পাইকারি পর্যায়ে এসব শজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসেও বন্দর দিয়ে ভারত থেকে শজনে ডাঁটা আমদানি করা হয়েছিল।
শজনে ডাঁটার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মাহবুব আলম বলেন, দেশের গাছ থেকে শজনে ডাঁটা নামতে আরও সময় লাগবে। আমাদের দেশীয় শজনের গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে মাত্র। এখনো অন্তত এক মাস সময় লাগবে দেশীয় শজনে ডাঁটা বাজারে আসতে। কিন্তু ইতিমধ্যেই ভারতে বারোমাসি শজনে ডাঁটা উঠতে শুরু করেছে। অসময়ের শজনে ডাঁটা হওয়ায় ও দেশীয় শজনে ডাঁটার চেয়ে আকারে বেশ মোটা ও স্বাদ ভালো হওয়ায় দেশের বাজারে ভারতীয় এই শজনে ডাঁটার বেশ চাহিদা রয়েছে। ঔষধিগুণসম্পন্ন অসময়ের বারোমাসি ভারতীয় এই শজনে ডাঁটার দেশের বাজারে দাম ভালো রয়েছে। বাড়তি সেই চাহিদা ও ভালো দামের কথা মাথায় রেখে আবারও ভারত থেকে বারোমাসি শজনে ডাঁটা আমদানি করা হয়েছে। ভারতের নাসিক অঞ্চল থেকে এসব শজনে ডাঁটা আমদানি করা হচ্ছে। ভারত থেকে প্রতিটন শজনে ডাঁটা ১৫০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করছি। বন্দরের চার্জ ও শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি ২৫ টাকার মতো খরচ পড়ছে। দেশীয় শজনে ডাঁটা না ওঠা পর্যন্ত, আমদানিতে পড়তা থাকলে ও দেশের বাজারে পণ্যটির চাহিদা থাকলে বন্দর দিয়ে নিয়মিতভাবে শজনে ডাঁটা আমদানি করা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শজনে ডাঁটা আমদানি শুরু হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি বন্দর দিয়ে নতুন করে শজনে ডাঁটা আমদানির ফলে বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয় বাড়ায় তারাও ভালোভাবে চলতে পারছেন।
