শান্ত লিটন হৃদয়ের ভুল শোধরানোর সুযোগ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ১২:৫১ এএম

গত বছর ছয়েকে অনেক কিছু হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। অধিনায়ক বদলেছে, কোচ বদলেছে, প্রধান নির্বাচকও বদলেছে। দুটো ব্যাপার বদলায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদে কোনো বদল আসেনি আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে জিততে পারেনি। জয়ের খুব কাছে গিয়েও পারেনি। প্রথম ব্যাপারটি সহসা পরিবর্তনের কোনো আশা নেই, তবে দ্বিতীয়টি? সম্ভাবনার অঙ্ক তো বলছে এবারই সেরা সুযোগ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবশেষ জয় সেই ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে। মাহমুদউল্লাহর বীরত্বে শ্রীলঙ্কাকে ফাইনাল থেকে ছিটকে দেওয়া সেই ম্যাচ থেকেই তো জন্ম নতুন এক দ্বৈরথের। ড্রেসিং রুমের গ্লাস ভাঙা, মাঠ ছেড়ে চলে আসার হুমকি আর নাগিন ড্যান্স...কত কিছুই তো জড়িয়ে কলম্বোর সেই স্মৃতির সঙ্গে। তবে এরপর বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডেতে বার কয়েক হারালেও টি-টোয়েন্টিতে পারেনি। পরপর দুটো এশিয়া কাপে সিংহলবাসীদের মুখোমুখি হলেও পারেনি বাংলাদেশ, সবশেষ ম্যাচটা নিজেদের মাটিতে। তবে আশার বাণী এই যে হারের ব্যবধান কমছে! ৫ উইকেট, ২ উইকেট এবং সবশেষ ম্যাচে ৩ রানে হারের পর বলা যায় সামনের ম্যাচটায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই জোরালো!

বিদায়ী নির্বাচক কমিটি যে দলটা সাজিয়ে দিয়েছিলেন, তাতে প্রথম সুযোগেই একটা পরিবর্তন আনেন নতুন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। চোট পাওয়া আলিস ইসলামের বদলে আরেকজন স্পিনার না নিয়ে তিনি নিয়েছেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান জাকের আলি অনিককে, যার হাফসেঞ্চুরিতেই জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। বছর দুয়েক পর দলে ফিরে মাহমুদউল্লাহও করেছেন হাফসেঞ্চুরি। দালানের ওপরের তলাগুলো সুদৃশ্য দেখালেও ভিত যে দুর্বল! পুরো বিপিএল জুড়ে ছন্দহীন থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত জাতীয় দলেও নি®প্রভ। লিটন দাসের শীতঘুম কাটেনি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৮৩ রানের ইনিংস খেলার পর কতদিন তার ব্যাট নিশ্চুপ থাকবে সেটা তিনি ভালো জানেন। বরিশালের হয়েই নিয়মিত ইনিংসের সূচনায় সুযোগ না পাওয়া সৌম্য সরকার কেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নামলেন আর গোটা বিপিএলে ওয়ান ডাউনে ভালো করা তাওহীদ হৃদয়কে কেন চারে নেমে যেতে হলো সেই প্রশ্নও এসেছে হারের পর। যদিও এসব প্রশ্ন উঠছে ৩ রানে হারের পর, যে ম্যাচটা আরও বড় ব্যবধানেই হেরে যেতে পারত বাংলাদেশ যদি না পাথিরানা অমন বেহিসাবি বোলিং করতেন আর ২৮ রানে থাকা মাহমুদউল্লাহর ক্যাচটাকে যদি সাদেরা সামারাবিক্রমা চার বানিয়ে না দিতেন। শেষ ওভারে মোস্তাফিজ ২৪ রান দেওয়ার পরও ম্যাচটা অল্প ব্যবধানে হারের তৃপ্তি তাই থাকতেই পারে।

ঘুরে ফিরে আসতে হয় প্রায় দিন ১৫ আগের ঘোষণা করা দল প্রসঙ্গেই। বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন না। ৩৮৪ রান করা নিয়মিত ওপেনার দলের বাইরে আর ফ্র্যাঞ্চাইজি দলেও নিয়মিত ওপেনার না হয়েও তারচেয়ে প্রায় শ’দেড়েক রান কম করে একজন জাতীয় দলের ওপেনার। বিপিএল ফাইনালে আন্দ্রে রাসেলকে ডেথ ওভারে আটকে দেওয়া সাইফ উদ্দিনও বাইরে। সেরা ছন্দে থাকাদের বাইরে রেখে দল গড়ার খেসারতই প্রথম ম্যাচে দিতে হয়েছে সিলেটে। ভুলগুলো না শুধরালে হারের তালিকাটাই হবে লম্বা, যেটা লম্বা হতে হতে সিলেট থেকে ডালাসে পৌঁছে গেলে বিপদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত