মঞ্চ তৈরি হয়েছিল ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোর জন্য। শততম টেস্ট খেলতে নামা দুজনেই তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলার মোটামুটি সুযোগ পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার সুযোগ এখনো আছে তাদের। অশ্বিনকে আসলে অত অপেক্ষাও করতে হচ্ছে না। তবে কোনো সন্দেহ নেই ভারত-ইংল্যান্ডের পঞ্চম টেস্টের প্রথম দিন রাঙিয়েছেন কুলদীপ যাদব।
এই চায়নাম্যান বোলারের ৫, সঙ্গে অশ্বিনের ৪ উইকেটে টস জয়ী ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ২১৮ রানেই। জবাব দিতে নেমে জয়সোয়াল-রোহিতের ১০৪ রানের জুটিতে ভারত তুলে ফেলেছে ১৩৫ রান
কুলদীপ প্রথম দুটি সেশনে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে রিস্ট স্পিনের জাদুতে বশ করে রাখেন। তবে ইংল্যান্ডের প্রথম দুটি উইকেট উপহারই পেয়েছেন তিনি। বেন ডাকেট উড়িয়ে মারতে গিয়ে শুবমান গিলের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন। আর লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে ওলি পোপ ধৈর্যচ্যুতি ঘটে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়া আসায়।
কুলদীপ তার সেরাটা তুলে রেখেছিলেন দ্বিতীয় সেশনের জন্য। ৭৯ রান করা জ্যাক ক্রলির পর শততম টেস্ট খেলতে নেমে ২৯ রান করা জনি বেয়ারস্টোকে আউট করে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন কুলদীপ। এই হাফসেঞ্চুরি করতে মাত্র ১৮৭১ বল লাগল তার, যা ১০০ বছরের মধ্যে দ্রুততম।
৫৬ বলে ২৬ রান করা জো রুটকে আউট করেন জাদেজা। কয়েক বলের মধ্যেই ইংল্যান্ড অধিনায়ককে শূন্যতে ফিরিয়ে ১২ টেস্টের ক্যারিয়ারে চতুর্থবার ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন কুলদীপ। ১৭৫ থেকে আর মাত্র ৩৩ রানেই অশ্বিন মুড়িয়ে দেন ইংল্যান্ডকে।
ভারত এরপর যখন ব্যাটিংয়ে নামল, ধর্মশালার উইকেটকে মনে হচ্ছিল একেবারেই আলাদা। আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করা ভারতের আক্রমণের ধার যেন বেড়েছে আরও। ২১তম ওভারেই রোহিত ও জয়সোয়ালের জুটিতে আসে ১০০ রান। সুনীল গাভাস্কারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এক সিরিজে ৭০০ রান করার পথে জয়সোয়াল ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ৫৬ বলে। শোয়েব বশিরের প্রথম ওভারেই এ বাঁহাতি মারেন ৩টি ছক্কা। মার্চেই এক পঞ্জিকাবর্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ ছক্কা মারা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (৩৩) রেকর্ডের আরও কাছে চলে এসেছেন জয়সোয়াল (২৬)।
শেষ পর্যন্ত বশিরকে সামনে এসে খেলতে গিয়ে জয়সোয়াল স্টাম্পিং হলে ভাঙে ১০৪ রানের জুটি। শুবমান গিল অবশ্য নেমে মারেন ২টি করে চার ও ছক্কা, অন্যদিকে ৭৭ বলে ফিফটি পান রোহিত।
