অবৈধ ইহুদি বসতির রেকর্ড

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ১২:৪২ এএম

সম্প্রতি ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরে আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসতি অবৈধভাবে স্থাপন করতে চলেছে। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অব্যাহত জাতিগত নিধনপর্ব শেষ না হতেই ইসরায়েল নতুন করে এ পরিকল্পনা প্রকাশ করল। ইসরায়েলের মিত্র পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে সমালোচনায় সরব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আপত্তিও শুনছে না তারা। অবশ্য এসব ইসরায়েলি প্রশাসনের এ ধরনের আচরণ নতুন ঘটনা নয়। দেশটিকে কার্যকর মাত্রায় জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন অবধি কোনোদিন সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের বসতি স্থাপন পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দেন।

জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদেন বলা হয়, জাতিসংঘ ২০১৭ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির কার্যক্রমের নথি সংরক্ষণ করা শুরু করে। গত অক্টোবরের শেষ নাগাদ এক বছরে ইসরায়েল ২৪ হাজার ৩০০টির মতো বাড়ি গড়ে তুলেছে ইসরায়েল, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ অবৈধ বসতি গড়ার হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের রেকর্ড তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করে, ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা। এমনকি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও বসতি স্থাপনকে অবৈধ আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং দখলকৃত অঞ্চলকে আগ্রাসীভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বসতি স্থাপন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

টার্কের সংস্থার ১৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং বসতি স্থাপনসংক্রান্ত সংঘাত বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।’ আরও বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর হামাস অতর্কিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হওয়ার যুদ্ধের পর ইসরায়েল বসতি স্থাপনের গতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইহুদি ও ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে নিহত হয়েছে ৪০০ ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙা হচ্ছে এবং তাদের চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষ মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তা টর ওয়েনেসল্যান্ড ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে বলেন, ‘যাবতীয় বসতি পশ্চিম তীরে সহিংসতাকে উসকে দেবে।’ ইসরায়েলি প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে যখন দেশটি তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রাপ্তির অধিকারকে পদদলিত করার পাশাপাশি তাদের ভূমি দখল করার বিরুদ্ধে সব কণ্ঠস্বরকে কার্যত কোণঠাসা করেছে ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনের আরেক অংশ গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসকে নির্মূল করতে পারছে না। পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৩১ হাজার মানুষকে হত্যা করেও থামছে না ইসরায়েল।

১৯৬৭ সালে আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের ছয় দিনব্যাপী যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। তখন থেকে চলছে তাদের অবৈধ বসতি স্থাপন। বর্তমানে পশ্চিম তীরে সাত লাখের মতো ইসরায়েলি বসবাস করছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগ। পশ্চিম তীরের দেড়শ বসতি ও ১২৮টির মতো আউটপোস্টে বসবাস করছে এসব বাসিন্দা। ইহুদি ধর্মের সঙ্গে পশ্চিম তীরের সংশ্লিষ্টতার ওপর বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় কারণে ইসরায়েলিরা সেখানে বসবাস করে। আবার পশ্চিম তীরে জীবনযাত্রার ব্যয়ও কম; সেই কারণে সেখানে বসবাস করে ইহুদিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত