বিশ্বাস আর বাস্তবের মেলবন্ধনে শিরোপা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০১:০৫ এএম

বিশ্বাস আর বাস্তবের মেলবন্ধন ঘটাতে পেরে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস। ফাইনালের আগে শিরোপা নিয়ে দুই দলের অধিনায়কের ফটোসেশনের সময় যে বিশ্বাসটা মনে গেঁথে দিয়েছিলেন, পরে দলকে যা বলে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, সেগুলোই বাস্তব রূপ পেয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৩-২ গোলে হারিয়ে। পরম কাক্সিক্ষত শিরোপা হাতে আগের দিনের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

‘আমি খুব শিহরিত ছিলাম, যখন আমাদের সামনে ট্রফিটা আনা হয়। যখন এর মোড়ক খোলা হয়, তখন আমি প্রথম দেখেছিলাম। তখন থেকে ভেতরে এই অনুভূতি কাজ করছিল যখন ট্রফি ধরতে ভারতের অধিনায়ককে বলা হলো, সে কিন্তু ধরেনি, আমি ধরেছিলাম’, এভাবেই শিরোপা জয়ের প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন এই ডিফেন্ডার, ‘তখন থেকেই আমার মনে হয়েছে আমি যেহেতু ট্রফিটা প্রথম স্পর্শ করেছি, আমরা এটা দেশে নিয়ে যাব। সতীর্থদেরও বলেছি, ‘ট্রফিটা আমি ছুঁয়েছি, এটা যেন ভারতের কেউ নিতে না পারে। আমি সার্থক হয়েছি।’ অর্পিতা তার সতীর্থদের নিয়ে কথা রেখেছেন। প্রতিপক্ষ ভারতকে ছুঁতে দেননি সেই শিরোপা।

নারী ফুটবলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাফল্য পাচ্ছেন অভিজ্ঞ কোচ সাইফুল বারী টিটু। গত মাসে মিলেছে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের সাফল্য। লঙ্কান ম্যাচ কমিশনারের ভুলে সেই শিরোপা ভারতের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ হয়তো ছিল। সেটা এবার দূর হয়েছে। এই কোচ বলেন, ‘এই সাফ জেতার আনন্দ অন্যরকম। যেহেতু এটা আমরা বিদেশের মাটিতে জিতেছি। দলটা নিয়ে কাজ করার তেমন সময় পাইনি। সে হিসেবে ওরা যা খেলেছে তা দুর্দান্তই। আমি সব কৃতিত্ব দেব আমার দলের খেলোয়াড়দের। এখানে আমার বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই।’

টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় ভারতের তিনটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল গোলকিপার ইয়ারজান বেগমের। সুবাদে টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এত এত প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন ইয়ারজান, ‘আমার অনেক ভালো লাগছে। প্রথম টুর্নামেন্ট জিতলাম। সেরা গোলকিপার হওয়ার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই সেরা হয়েছি, শিরোপা জিতেছি। অনেক খুশি আজ আমি। এই সাফল্যের কৃতিত্ব আমি আমার বাবা ও কোচকে (গোলকিপার কোচ আরিফ আহমেদ পান্নু) দিতে চাই।’

ফাইনালে জ্বলে উঠতে না পারলেও দলকে লিগপর্বের সেরা করতে বড় ভূমিকা ছিল সুরভী আখন্দ প্রীতির। পাঁচ গোল করেছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তাতে টুর্নামেন্ট সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তবে ফাইনালে একটি গোল করলে সর্বোচ্চ গোলের স্বীকৃতিটাও জুটে যেত। সেটা না হওয়ায় একটুও আক্ষেপ নেই প্রীতির, ‘সেরা গোলদাতা হতে না পারার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ আমার কাছে দলের সাফল্যই সবার ওপরে। ভবিষ্যতে চাইব সাবিনা আপুর (জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন) মতো বড় ফুটবলার হতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত