গাজীপুরের শ্রীপুরে আমন্ত্রণপত্রে এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম না থাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন ওই নেতা ও তার অনুসারীরা। এ ছাড়া তারা বিদ্যালয়টির এক সহকারী শিক্ষককেও মারধরও করেন। গত বৃহস্পতিবার শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের ৮৯ নম্বর কেওয়া পশ্চিম খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জেরে গতকাল রবিবারের পূর্বনির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তিনি হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি।
বিদ্যালয়টির ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাকরা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দ্বন্দ্বে বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে স্কুল কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় হতাশ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম সরকার তার অনুসারীদের নিয়ে কেওয়া পশ্চিম খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে ঢুকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। এ নিয়ে কথা বলার সময় সহকারী শিক্ষক রুহুল আমীনকে আরিফুল ইসলামের অনুসারীরা মারধর করেন। এমন পরিস্থিতিতে গতকালের পূর্বনির্ধারিত ক্রীড়া অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি (আরিফুল ইসলামের অনুসারী) স্কুলে এসে রবিবারের অনুষ্ঠান স্থগিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় এ নিয়ে কথা বলায় স্কুলের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমীনকে মারধর করেন তারা। এ ঘটনায় পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি।’ এ বিষয়ে গতকাল শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে আসেন। এ সময় আমি ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের পুরস্কার কেনার জন্য বাইরে ছিলাম। স্কুলে থাকা শিক্ষকদের কাছে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ও তার নাম না থাকা নিয়ে আরিফুল ইসলাম অসন্তোষ প্রকাশ করে আয়োজন বন্ধ রাখতে বলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন স্কুলের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমীনকে সিঁড়ির নিচে ডেকে নিয়ে মারধর করেন।’
তবে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষককে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অতীতের বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম রাখা হতো। কিন্তু এ বছর দাওয়াত কার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি। ক্রীড়া অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলিনি।’
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আরিফুল ইসলাম সরকার বর্তমান সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসির অনুসারী। কেওয়া পশ্চিম খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনায় সব দায়িত্বে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের অনুসারীরা। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। সে বিরোধের জেরেই অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বছর ঘুরে স্কুলের একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের জন্য। শিশুরা নানা আয়োজনের মধ্যে এ দিনটি উপভোগ করে। এভাবে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা কষ্ট পেয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীপুরের ইউএনও শোভন রাংসা বলেন, ‘স্কুলের পক্ষ থেকে আজ (গতকাল) অভিযোগ পেয়েছি। এর আগে মৌখিকভাবেও বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জানিয়ে ছিলেন। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।’
